“থানায় ঢুকে পুলিশকে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর!”-মহিষাদলে ধুন্ধুমার, দল ভাঙানোর ছক ফাঁস?

বিধানসভা ভোটের রণক্ষেত্রে এবার সরাসরি থানায় ঢুকে পুলিশকে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদলে শাসকদলের বিরুদ্ধে ‘দল ভাঙানোর’ চেষ্টার অভিযোগ তুলে ডিউটি অফিসারের সামনেই সরব হলেন তিনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলায় রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে।
অভিমানের সুর বনাম দলবদল বিতর্ক
ঘটনার সূত্রপাত বিজেপির প্রার্থিতালিকা প্রকাশের পর। মহিষাদলের প্রাক্তন প্রার্থী বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় টিকিট না পেয়ে সাময়িক ‘অভিমানী’ হয়ে পড়েন। শুভেন্দুর অভিযোগ, এই সুযোগটাই নিতে চেয়েছিল শাসকদল। বিশ্বনাথবাবুকে ফোন করে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
খবর পেয়েই ক্ষুব্ধ শুভেন্দু অধিকারী সোজা পৌঁছে যান বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে। সেখানে দীর্ঘক্ষণ কথা বলে তাঁর মান ভাঙানোর চেষ্টা করেন। এরপরই মেজাজ হারিয়ে সটান হাজির হন মহিষাদল থানায়।
থানায় শুভেন্দুর ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’
থানায় ঢুকে ডিউটি অফিসারের সামনে কার্যত রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন শুভেন্দু। তাঁর বিস্ফোরক দাবি:
-
হোয়াটসঅ্যাপ কলের প্রমাণ: বিশ্বনাথবাবুকে একাধিকবার হোয়াটসঅ্যাপ কল করা হয়েছে এবং তার সব রেকর্ড তাঁদের হাতে রয়েছে।
-
আইপ্যাক ও পুলিশের আঁতাত: শুভেন্দুর অভিযোগ, নির্বাচন ঘোষণার পর পুলিশ ও আইপ্যাক (I-PAC) মিলে বিরোধীদের ভাঙানোর চেষ্টা করছে, যা কমিশনের নিয়মবিরুদ্ধ।
-
সতর্কবার্তা: তিনি স্পষ্ট জানান, তমলুক ও নন্দীগ্রামেও একই খেলা চলছে। পুলিশ যেন কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ না করে নিরপেক্ষভাবে আইন মেনে চলে।
পাল্টা জবাব তৃণমূল ও বিশ্বনাথের
যদিও শুভেন্দু অধিকারীর এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের দাবি, বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ঢাকতেই এই ধরনের নাটক সাজানো হচ্ছে।
এদিকে, যাঁর টিকিট না পাওয়া নিয়ে এত কাণ্ড, সেই বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমকে জানান, “টিকিট না পাওয়ায় সাময়িক আক্ষেপ তৈরি হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু দল ছাড়ার কোনও প্রশ্নই নেই। আমি বিজেপিতেই আছি।”