রাজ্যে কি অঘোষিত রাষ্ট্রপতি শাসন? অফিসার বদলি ও উত্তরবঙ্গ নিয়ে মোদী-শাহকে তীব্র আক্রমণ দিদির!

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের ইস্তাহার প্রকাশের অনুষ্ঠান ছিল নিছকই এক আনুষ্ঠানিকতা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কালীঘাটের সেই মঞ্চ থেকেই বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সাফ দাবি, বাংলায় এখন আর গণতন্ত্র নেই, চলছে “স্বঘোষিত রাষ্ট্রপতি শাসন”।
বাংলা ভাগের গভীর ষড়যন্ত্র? এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে বলেন, গেরুয়া শিবির উত্তরবঙ্গকে মূল ভূখণ্ড থেকে বাদ দিয়ে এবং পার্শ্ববর্তী রাজ্য বিহারের কিছু অংশ জুড়ে এক নতুন রাজ্য গঠনের নীল নকশা তৈরি করেছে। তাঁর মতে, বাংলা দখলের এই “ভয়াবহ ব্লু-প্রিন্ট” রাজ্যের অখণ্ডতার ওপর বড় আঘাত। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ডিলিমিটেশন, এনআরসি এবং জনগণনার নামে সাধারণ মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার এক সুগভীর পরিকল্পনা চলছে।
কমিশন ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ নিয়ে তোপ: নির্বাচন চলাকালীন রাজ্যের আইএএস ও আইপিএস আধিকারিকদের লাগাতার বদলি নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে একহাত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর প্রশ্ন, “খাদ্য বা পঞ্চায়েত দফতরের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গা থেকে বাংলার অফিসারদের সরিয়ে ভিন রাজ্যের পর্যবেক্ষকদের কেন আনা হচ্ছে? তাঁরা কি বাংলার ভাষা বা সংস্কৃতি বোঝেন?” মমতার অভিযোগ, বাইরে থেকে কালো টাকা এনে নির্বাচনকে প্রভাবিত করতেই এই ধরনের রদবদল করা হচ্ছে। একে তিনি “স্বঘোষিত রাষ্ট্রপতি শাসন” বলে অভিহিত করেছেন।
কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ: মোদী-শাহ জুটিকে সরাসরি আক্রমণ করে তৃণমূল নেত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে সংবিধান বা আইনের শাসন বলে কিছু অবশিষ্ট নেই। রেল, এয়ার ইন্ডিয়া থেকে শুরু করে এলআইসি— সব কিছুই বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। যারা ব্যাঙ্কের টাকা লুট করছে তারা নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াচ্ছে, আর ইডি-সিবিআই দিয়ে বিরোধীদের ভয় দেখানো হচ্ছে।
সবশেষে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে মমতার আবেগঘন আবেদন, “বাংলার নিজস্ব অস্মিতা, ইতিহাস এবং ভাষাকে বাঁচাতে আসল সৈনিকের মতো রুখে দাঁড়ান। কোনো প্রলোভন বা অর্থের ফাঁদে পা না দিয়ে জোড়াফুল শিবিরকেই জয়যুক্ত করুন।”