কমিশনকে মমতার ৩ পাতার কড়া চিঠি! প্রশাসনিক অস্থিরতা তৈরির অভিযোগে তোলপাড় বাংলা

ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে নবান্নের সংঘাত তুঙ্গে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে তিন পাতার দীর্ঘ ও কড়া চিঠি পাঠালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন সংবিধানের সীমা লঙ্ঘন করে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে এবং বাংলায় ইচ্ছাকৃতভাবে প্রশাসনিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। SIR (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে আমলা বদলি— প্রতিটি পদক্ষেপে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর চিঠিতে স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা আদর্শ আচরণবিধি (MCC) ভঙ্গের প্রমাণ ছাড়াই রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং ডিজিপি-র মতো শীর্ষ আধিকারিকদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রশাসনের চাকা থমকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, রাজ্যের ১৫ জন অভিজ্ঞ পুলিশ অফিসারকে ভিনরাজ্যে ‘অবজার্ভার’ হিসেবে পাঠানো নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। মমতার যুক্তি, মার্চ-এপ্রিল মাসে ঝড়-বৃষ্টির মরশুমে অভিজ্ঞ অফিসারদের সরিয়ে দিলে বিপর্যয় মোকাবিলা ব্যাহত হতে পারে।

চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেছেন, বাইরের রাজ্য থেকে আসা অফিসাররা স্থানীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সমস্যা তৈরি করতে পারে। সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদের দোহাই দিয়ে নির্বাচিত সরকারকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে বলেও তোপ দেগেছেন তিনি। মমতার কথায়, “এই পরিস্থিতির জন্য সম্পূর্ণ দায়ী থাকবে নির্বাচন কমিশন।” ভোটের মুখে মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘লেটার বোমা’ জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল।