ইরানের বৃহত্তম গ্যাস ঘাঁটিতে ইজরায়েলি হামলা! কিছুই জানতাম না বলে হাত ধুয়ে ফেললেন ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন অগ্নিকুণ্ড। বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্র ইরানের ‘সাউথ পার্স’-এ ইজরায়েলি হামলার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছে। এই চরম উত্তেজনার মাঝেই বিস্ফোরক দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইজরায়েল এই হামলা চালানোর আগে ওয়াশিংটনকে বিন্দুমাত্র আভাস দেয়নি। ট্রাম্পের কথায়, “ইজরায়েল ইরানের গ্যাস ঘাঁটির একটি নির্দিষ্ট অংশে হামলা চালিয়েছে, যার বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো আগাম তথ্য ছিল না।”
ইজরায়েলি এই অভিযানের পাল্টা জবাব দিতে ইরান কাতারের একটি এলএনজি (LNG) ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। তেহরানের এই পদক্ষেপকে ‘অযৌক্তিক এবং অন্যায্য’ বলে আখ্যা দিয়ে ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “কাতার এই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত ছিল না। যদি ইরান নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দিয়ে ফের কোনো নির্দোষ রাষ্ট্রের ওপর হামলা চালায়, তবে আমেরিকা সাউথ পার্স গ্যাস ক্ষেত্রকে এমন শক্তি দিয়ে ধ্বংস করবে যা ইরান আগে কখনও দেখেনি।” ট্রাম্প আরও জানান, ইজরায়েলের সম্মতি থাকুক বা না থাকুক, কাতারের ওপর পরবর্তী কোনো আঘাত এলে আমেরিকা সরাসরি সামরিক অভিযানে নামবে।
এদিকে, এই পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে বিশ্ব অর্থনীতিতে ধস নামার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০৮ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে পেট্রল এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার প্রবল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইতিমধ্যেই হুমকি দিয়েছেন যে, এই হামলার প্রভাব সমগ্র বিশ্বের ওপর পড়বে। এখন দেখার, হোয়াইট হাউসের এই হুঁশিয়ারির পর তেহরান তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেয়।