বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের আশঙ্কা! ইরানের নিশানায় এবার সমুদ্রের তলদেশের মহাপ্রাণভোমরা

বিশ্ব কি এক অন্ধকার ডিজিটাল যুগের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত এবার এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা কেবল জ্বালানি নয়, স্তব্ধ করে দিতে পারে গোটা বিশ্বের ইন্টারনেট ব্যবস্থাকে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল ইতিমধ্যেই বন্ধ। কিন্তু এখন আসল আতঙ্ক দানা বাঁধছে সমুদ্রের তলদেশের রহস্যময় ক্যাবল নেটওয়ার্ক নিয়ে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, তেহরান যদি এবার হরমুজ ও লোহিত সাগরের তলদেশে থাকা ফাইবার-অপটিক ক্যাবল লক্ষ্য করে আঘাত হানে, তবে ভিডিও কল থেকে শুরু করে ব্যাঙ্কিং লেনদেন—সবকিছুই মুহূর্তের মধ্যে অচল হয়ে পড়বে।

হরমুজ প্রণালী এবং লোহিত সাগরের ‘বাব-এল-মান্দেব’—এই দুটি সংকীর্ণ জলপথ দিয়েই পার হয়েছে বিশ্বের সিংহভাগ ডেটা ট্রাফিক। লোহিত সাগরের তলদেশে থাকা ১৭টি এবং পারস্য উপসাগরের AAE-1, FALCON-এর মতো শক্তিশালী ক্যাবল লাইনগুলো সরাসরি এশিয়া, ইউরোপ এবং আফ্রিকাকে সংযুক্ত করে। বিশেষ করে গুগল, মাইক্রোসফট এবং অ্যামাজনের মতো টেক জায়ান্টরা এই অঞ্চলে যে কয়েক বিলিয়ন ডলারের ডেটা সেন্টার গড়ে তুলেছে, তা পুরোপুরি এই সাবমেরিন ক্যাবলগুলোর ওপর নির্ভরশীল। ইরান যদি সমুদ্রের অগভীর জলে বিছিয়ে রাখা এই তারগুলো কেটে দেয় বা মাইন বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত করে, তবে সেই ক্ষত সারাতে কয়েক মাস সময় লেগে যাবে। কারণ যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে কোনো মেরামতকারী জাহাজ ওই এলাকায় প্রবেশের ঝুঁকি নেবে না।

ভারতের জন্যও এই খবর অত্যন্ত উদ্বেগের। ভারতের আন্তর্জাতিক ডেটা সংযোগের একটি বড় অংশ এই রুট দিয়েই আসে। ফলে ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত হওয়া বা গতি কমে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। গত ২০২৪ সালে হুথি বাহিনীর হামলায় লোহিত সাগরের ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতি তার চেয়েও কয়েক গুণ বেশি ভয়াবহ। তেলের দাম যখন ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে আকাশছোঁয়া, তখন ইন্টারনেটের এই ‘ডেটা বিপর্যয়’ বিশ্ব অর্থনীতিকে খাদের কিনারে ঠেলে দিতে পারে।