গ্যাসের কালোবাজারি রুখতে দেশজুড়ে ৬০০০ তল্লাশি! মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব কাটাতে রাশিয়ার দ্বারস্থ হচ্ছে ভারত?

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং গত ফেব্রুয়ারি থেকে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার জেরে ভারতে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা জানিয়েছেন, দেশে জ্বালানি পুরোপুরি ফুরিয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। ভারত এখন মধ্যপ্রাচ্যের বদলে আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং অন্যান্য বিকল্প উৎস থেকে এলপিজি (LPG) ও এলএনজি (LNG) আমদানিতে জোর দিচ্ছে।
বিকল্প রুটে আমদানি ও সরবরাহ: মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশ এলপিজি মধ্যপ্রাচ্য থেকে এলেও বর্তমানে আমেরিকা থেকে গ্যাস আনা শুরু হয়েছে। এছাড়া ৭০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এখন আনা হচ্ছে হরমুজ প্রণালীর বাইরে অন্য পথ দিয়ে। কাতার বড় সরবরাহকারী হলেও আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়া থেকেও এলএনজি আনার প্রক্রিয়া চলছে। এমনকি বিদেশ মন্ত্রক ইঙ্গিত দিয়েছে যে, প্রয়োজন পড়লে রাশিয়া থেকেও এলপিজি কেনা হতে পারে।
কালোবাজারি রুখতে কড়া পদক্ষেপ: জ্বালানি সংকটের সুযোগ নিয়ে যাতে কেউ অতিরিক্ত সিলিন্ডার মজুত বা কালোবাজারি করতে না পারে, তার জন্য দেশজুড়ে অভিযান চালাচ্ছে কেন্দ্র।
-
গতকালই দেশজুড়ে ৬,০০০ তল্লাশি চালানো হয়েছে।
-
উত্তরপ্রদেশে ১,১০০ অভিযানে ১,০০০ সিলিন্ডার এবং মধ্যপ্রদেশে ১,৬৩২ অভিযানে ২৫০টি সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
গৃহস্থের জন্য সুখবর: সুজাতা শর্মা জানিয়েছেন, গতকালই ৫৬ লক্ষ এলপিজি বুকিং হয়েছে এবং ৫৫ লক্ষ সিলিন্ডার সরবরাহ করা হয়েছে। অনলাইনে ৯৫ শতাংশ বুকিং হচ্ছে। রাজ্য সরকারগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষের বাড়িতে গ্যাস পৌঁছে দেওয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এছাড়া বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তবে শর্ত একটাই—ভবিষ্যতে তাদের পিএনজি (PNG) বা পাইপলাইনের গ্যাসে স্থানান্তরিত হতে হবে।