ভোটের আগেই কাঁপবে বাংলা? মোদী-শাহর উপস্থিতিতে বিজেপির রাজকীয় প্রচারের প্রস্তুতি

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে বাংলায় অল-আউট ঝাঁপাতে চলেছে বিজেপি। একদিকে যখন শাসকদলের উন্নয়ন বনাম দুর্নীতির অভিযোগের লড়াই তুঙ্গে, ঠিক তখনই দিল্লিতে বসে বাংলার জন্য ‘মেগা প্রচার’ পরিকল্পনা সাজিয়ে ফেলেছে গেরুয়া শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব। নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে যোগী আদিত্যনাথ— একঝাঁক হেভিওয়েট নেতাকে নিয়ে রাজ্যে আক্ষরিক অর্থেই ‘প্রচার ঝড়’ তুলতে মরিয়া বিজেপি।

মোদীর ডাবল ডিজিট সভা, শাহর বুথ মন্ত্র

বিজেপির এই ম্যারাথন প্রচারের মধ্যমণি অবশ্যই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দলীয় সূত্রে খবর, শহর থেকে গ্রাম— সর্বত্র জনমত গড়তে রাজ্যে অন্তত ১৪টি মেগা কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর রোড-শো এবং জনসভাগুলিকে এমনভাবে সাজানো হচ্ছে যাতে তার রেশ প্রতিটি বুথ পর্যন্ত পৌঁছায়।

অন্যদিকে, সংগঠনের চাণক্য অমিত শাহ সামলাবেন কৌশলগত দিকটি। তাঁর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৮টি কর্মসূচি। কেবল জনসভা নয়, শাহর মূল লক্ষ্য থাকবে বুথ স্তরের কর্মীদের চাঙ্গা করা এবং সংগঠনের ফাটল মেরামত করা।

যোগী-মিঠুন ম্যাজিক ও নাড্ডার উপস্থিতি

তৃণমূল স্তরের কর্মীদের মধ্যে জোশ জাগাতে বিজেপির বড় অস্ত্র উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। রাজ্যে তিনিও ৮টি সভা করবেন। পাশাপাশি, বাঙালির ঘরের ছেলে তথা মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তীকে নামানো হচ্ছে বিশেষ কৌশলে। প্রায় ১০টি কর্মসূচিতে দেখা যাবে তাঁকে, যা মূলত শহুরে ও আধা-শহুরে ভোটারদের প্রভাবিত করবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এছাড়া দলের অভিজ্ঞ নেতা জেপি নাড্ডা (৬টি সভা) এবং নীতিন নবীন (৭টি সভা) বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে ঝোড়ো প্রচার চালাবেন।

প্রচার কৌশলে কী কী থাকছে?

  • উত্তর ও দক্ষিণ সমীকরণ: উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গের রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল জেলাগুলিতে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

  • বুথ-স্তরে নজর: শুধুমাত্র বড় জনসভা নয়, স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে মাঠপর্যায়ের কাজ তদারকি করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

  • তারকা আকর্ষণ: মিঠুন চক্রবর্তীর জনপ্রিয়তা ব্যবহার করে গ্ল্যামার ও রাজনীতির মিশ্রণে প্রচারকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিজেপির এই ‘হেভিওয়েট কার্ড’ বাংলার ভোটারদের মনে কতটা জায়গা করে নিতে পারে, সেটাই এখন দেখার। তবে ১৪টি সভা নিয়ে মোদীর এই আক্রমণাত্মক মেজাজ যে বিরোধী শিবিরে চাপ বাড়াবে, তা বলাই বাহুল্য।