নির্বাচন কমিশনের ‘অ্যাকশন’-এ রুদ্রমূর্তি মমতার! ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’র অভিযোগ তুলে জনতাকে প্রতিরোধের ডাক!

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে শুরু হয়েছে এক নজিরবিহীন প্রশাসনিক ডামাডোল। একের পর এক আইএএস এবং আইপিএস আধিকারিককে নির্বাচন কমিশনের সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে এবার অগ্নিশর্মা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার এক জনসভায় দাঁড়িয়ে তিনি এই গণ-বদলির প্রক্রিয়াকে ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ এবং ‘রাষ্ট্রপতি শাসনের বিকল্প’ বলে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি রাজ্যবাসীকে এই ‘অন্যায়ের’ বিরুদ্ধে গণ-প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান অভিযোগগুলি: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, এই বদলিগুলি কোনও স্বাভাবিক প্রক্রিয়া নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গকে প্রশাসনিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। তাঁর অভিযোগ:

  • একতরফা সিদ্ধান্ত: কমিশন রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই রাতারাতি মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং ডিজিপি-র মতো শীর্ষ পদাধিকারীদের সরিয়ে দিয়েছে।

  • বিজেপি-র ছায়া: তৃণমূল নেত্রীর দাবি, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতা হারিয়ে বিজেপির ‘শাখা সংগঠন’ হিসেবে কাজ করছে। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “কমিশন চাইলে এবার সরাসরি বিজেপির হয়ে প্রচার শুরু করতে পারে।”

  • বাঙালি ও নারী বিদ্বেষ: মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে সরানোর প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী একে ‘বাঙালি ও নারী বিদ্বেষী’ পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন।

জনতার প্রতিরোধের ডাক: মুখ্যমন্ত্রী এদিন সাফ জানান, “সব আধিকারিককে বদলানো গেলেও মানুষের মন বদলানো যাবে না।” তিনি সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেন যে, প্রশাসনিক এই রদবদলের ফলে যদি রাজ্যে কোনও আইন-শৃঙ্খলার অবনতি বা বিপর্যয় ঘটে, তবে তার জন্য দায়ী থাকবে একমাত্র বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন। সরানো আধিকারিকদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, নির্বাচনের পর আদর্শ আচরণবিধি উঠে গেলেই এই আধিকারিকদের সসম্মানে পুরনো পদে ফিরিয়ে আনা হবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব: সামাজিক মাধ্যমেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরব হয়েছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, বিজেপি গণতান্ত্রিকভাবে লড়তে না পেরে প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজ্য দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। বাংলার মানুষ কখনও মাথা নোয়ায়নি এবং ২০২৬-এর এই লড়াইয়েও তারা যোগ্য জবাব দেবে বলে তিনি দাবি করেন।