কমিশনের কোপে অপসারিতরাই নবান্নের ‘তুরুপের তাস’! ভোটের মুখে ১১ আইএএস-কে নিয়ে বড় চাল মমতার!

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে নজিরবিহীন প্রশাসনিক রদবদল শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। বুধবারই ১১ জন আইএএস আধিকারিককে তাঁদের বর্তমান পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিল কমিশন। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই পাল্টা চাল দিল নবান্ন। বৃহস্পতিবার রাজ্য সরকারের পার্সোনেল অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিফর্মস দপ্তরের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে ওই ১১ জন আধিকারিককেই গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে পুনর্বহাল করা হল।
কারা পেলেন নতুন দায়িত্ব? নবান্নের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কলকাতা দক্ষিণের প্রাক্তন ডিইও সুমিত গুপ্তাকে বিপর্যয় মোকাবিলা ও সিভিল ডিফেন্স দপ্তরের সচিব করা হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের অপসারিত জেলাশাসক আয়েশা রানি এ-কে আনা হয়েছে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের সচিব পদে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রাক্তন জেলাশাসক অরবিন্দ কুমার মীনা পাচ্ছেন সংখ্যালঘু বিষয়ক দপ্তরের সচিবের দায়িত্ব।
এছাড়াও মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, মালদহ এবং উত্তর ২৪ পরগনার মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলার অপসারিত জেলাশাসকদের কৃষি, স্কুল শিক্ষা এবং পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের স্পেশাল সেক্রেটারি পদে নিয়োগ করা হয়েছে। কলকাতা পুরসভার মিউনিসিপ্যাল কমিশনার অংশুল গুপ্তাকেও পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের সিনিয়র স্পেশাল সেক্রেটারি করা হয়েছে।
সংঘাতের আবহ: গত ১৫ মার্চ নির্বাচনের দিন ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই নির্বাচন কমিশন রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরে কার্যত সার্জিক্যাল স্ট্রাইক শুরু করেছে। মধ্যরাতে মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিব বদল থেকে শুরু করে রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে অপসারণ—সব মিলিয়ে কমিশনের কড়া মনোভাব স্পষ্ট। এই পরিস্থিতিতে কমিশনের সরানো আধিকারিকদেরই ফের গুরুত্বপূর্ণ সচিবালয়ে ফিরিয়ে এনে নবান্ন স্পষ্ট বুঝিয়ে দিল যে, প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে তারা একচুলও জমি ছাড়তে নারাজ।
ভোটের মুখে এই বদলি এবং পাল্টা নিয়োগের ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জলঘোলা শুরু করেছে। বিরোধীরা একে সরকারের ‘চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে দেখলেও, নবান্নের দাবি এটি রুটিন প্রশাসনিক প্রক্রিয়া।