শুভেন্দুর মনোনয়নে পুলিশের ‘কাঁটা’? হলফনামার আগে শেষ মুহূর্তে কলকাতা হাইকোর্টে বিরোধী দলনেতা!

ভবানীপুরের হেভিওয়েট লড়াইয়ের দামামা বেজে গিয়েছে। কিন্তু মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ঠিক আগেই এক নতুন আইনি মোড় নিলেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পুলিশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে ফের কলকাতা হাইকোর্টের কড়া নাড়লেন তিনি।

কেন এই আইনি লড়াই?
নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, একজন প্রার্থীকে মনোনয়ন জমার সময় Form 26 বা নির্দিষ্ট হলফনামা পেশ করতে হয়। সেখানে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি থেকে শুরু করে আয়ের উৎস এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ— নিজের নামে থাকা সমস্ত অপরাধমূলক রেকর্ডের তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক। শুভেন্দুর অভিযোগ, তাঁর বিরুদ্ধে ঠিক কতগুলি মামলা রয়েছে, পুলিশ সেই সঠিক তালিকা তাঁকে দিচ্ছে না। ফলে সঠিক তথ্য ছাড়া হলফনামা জমা দিলে পরবর্তীকালে আইনি জটিলতায় পড়ার আশঙ্কা থাকছে।

সুরক্ষাকবচ বনাম আইনি টানাপোড়েন:
উল্লেখ্য, রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর সংঘাত নতুন কিছু নয়। এর আগে ২০২২ সালে বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার নির্দেশে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে FIR করার ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি প্রয়োজন ছিল। তবে ২০২৫ সালের ২৪ অক্টোবর বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত সেই দীর্ঘদিনের সুরক্ষাকবচ সরিয়ে দিয়ে জানান, এ ধরণের সুরক্ষা অনির্দিষ্টকাল চলতে পারে না। যদিও সেই সময়েই ১৫টি FIR ভিত্তিহীন বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে খারিজ করে দিয়েছিল আদালত, যা ছিল বিরোধী দলনেতার বড় জয়।

সাম্প্রতিক পরিস্থিতির আঁচ:
চলতি বছর পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনায় তাঁর কনভয়ে হামলার ঘটনার পর পাল্টাপাল্টি মামলায় আদালত ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত শুভেন্দুকে গ্রেফতারি থেকে সুরক্ষা দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে ঠিক কতগুলো মামলা ঝুলে রয়েছে, সেই ধোঁয়াশা কাটছে না।

রাজনৈতিক মহলের মতে, ভবানীপুরের মতো হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্রে মনোনয়নের খুঁটিনাটি নিয়ে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছেন না শুভেন্দু। তাই পুলিশের থেকে তথ্য না পেয়ে শেষ পর্যন্ত আদালতের হস্তক্ষেপ চাইলেন তিনি। এখন দেখার, হাইকোর্ট এই বিষয়ে কী নির্দেশ দেয়।