ভবানীপুরে শুভেন্দুর ‘ওপেন চ্যালেঞ্জ’! মমতার গড়ে দাঁড়িয়েই জয়ের ব্যবধান বেঁধে দিলেন ‘ধর্মযোদ্ধা’

নন্দীগ্রামের হাইভোল্টেজ লড়াইয়ের পর এবার রাজনীতির মহাযুদ্ধের এপিসেন্টার ভবানীপুর। একদিকে ঘরের মেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে তাঁকে চ্যালেঞ্জ জানাতে কোমর বেঁধে নেমেছেন শুভেন্দু অধিকারী। দুই শিবিরের দেওয়াল লিখন আর বাগযুদ্ধে কার্যত বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে দক্ষিণ কলকাতার এই বিধানসভা কেন্দ্র।
শুভেন্দুর ‘ধর্মযুদ্ধ’ ও আত্মবিশ্বাস:
হিন্দু নববর্ষের পুণ্যলগ্নে পুজো দিয়ে প্রচারের ময়দানে নেমেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। চক্রবেড়িয়ার দলীয় কার্যালয়ে পা রাখতেই তাঁকে ঘিরে শুরু হয় উন্মাদনা। ঢাক-ঢোল, লাড্ডু আর রজনীগন্ধার মালায় তাঁকে বরণ করে নেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। জনসমুদ্রের মাঝে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু দরাজ গলায় ঘোষণা করেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই কেন্দ্র থেকে অন্তত ২৫ হাজার ভোটে হারাবো।” নিজেকে ‘ধর্মযোদ্ধা’ হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, “স্বামীজীর মন্ত্রে দীক্ষিত হয়েই আমি ময়দানে নেমেছি। ৩৩ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং নরেন্দ্র মোদীর আশীর্বাদকে সঙ্গী করে আমি নিশ্চিত যে, স্বাধীনতা সংগ্রামী পরিবারের এই সদস্যকেই ভবানীপুরের মানুষ বেছে নেবেন।”
তৃণমূলের পাল্টাচাল ও স্নায়ুযুদ্ধ:
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গড়ে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ ঘাসফুল শিবিরও। শুভেন্দু যখন মিছিলে ব্যস্ত, ঠিক তখনই চক্রবেড়িয়ার সেই একই এলাকায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে দেওয়াল লিখনে মাতেন তৃণমূল কর্মীরা। বিজেপির শ্লোগান চলাকালীন পাল্টায় মুখর হয় তৃণমূল শিবির। কার্যত ‘ম্যান-মার্কিং’ স্ট্র্যাটেজিতে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার কৌশল নিয়েছে শাসকদল।
উত্তেজনায় ফুটছে ভবানীপুর:
সকাল থেকেই দুই দলের পাল্টাপাল্টি মিছিলে সরগরম গোটা এলাকা। একদিকে যখন বিজেপি উৎসবের মেজাজে প্রচার সারছে, অন্যদিকে তৃণমূলের দেওয়াল লিখন ও পাল্টা স্লোগান রাজনৈতিক পারদকে চরমে নিয়ে গেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভবানীপুরের এই লড়াই কেবল ভোট নয়, বরং দুই হেভিওয়েটের কাছেই এখন তা প্রেস্টিজ ফাইট।
শেষ হাসি কে হাসবেন? উত্তরের অপেক্ষায় এখন গোটা বাংলা।