পোখরানে প্রলয় নাচন! পিনাকার গর্জনে কাঁপল মরুভূমি, শত্রুর ঘুম ওড়াতে প্রস্তুত ভারতের দেশীয় ‘ব্রহ্মাস্ত্র

রাজস্থানের পোখরান ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে বুধবার ভারতের সামরিক শক্তি এক নয়া উচ্চতায় পৌঁছাল। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘পিনাকা’ (Pinaka) এক্সটেন্ডেড রেঞ্জ রকেট সিস্টেমের সফল পরীক্ষা চালাল ভারতীয় সেনা। মরুভূমির বুকে পিনাকার সেই বিধ্বংসী গর্জন আর আগুনের গোলা যেন আগাম বার্তা দিল— ভারতের সীমানায় নজর দিলে শত্রুর নিস্তার নেই। সোলার গ্রুপের তৈরি এই রকেট সিস্টেমের দুটি প্রোডাকশন ব্যাচের সফল পরীক্ষা প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারতের ‘আত্মনির্ভর’ হওয়ার পথে এক বিশাল মাইলফলক।

২৪টি রকেটে নিখুঁত ধ্বংসলীলা এদিনের পরীক্ষায় মোট ২৪টি পিনাকা এনহ্যান্সড রকেট নিক্ষেপ করা হয়। পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য ছিল রকেটগুলোর নিখুঁত নিশানা (Accuracy), ধারাবাহিকতা এবং মারণক্ষমতা যাচাই করা। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও প্রতিটি রকেট লক্ষ্যবস্তুতে অত্যন্ত সফলভাবে আঘাত হেনেছে। এই রকেট সিস্টেমটি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ঘাতক এবং দীর্ঘ পাল্লার হয়ে উঠেছে।

পিনাকা: ভারতের নিজস্ব ‘মাল্টিপল লঞ্চ রকেট সিস্টেম’ প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO) ভারতের সেনাবাহিনীর জন্য এই পিনাকা সিস্টেম তৈরি করেছে। এটি একটি মাল্টিপল লঞ্চ রকেট সিস্টেম (MLRS), যা অত্যন্ত দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম। এর বিশেষত্ব হলো এটি ক্রুজ মিসাইলের মতো নিখুঁতভাবে শত্রুর ঘাঁটিতে আঘাত হানতে পারে। বর্তমানে ভারতীয় সেনায় পিনাকা মার্ক-১ এবং মার্ক-২ সক্রিয় রয়েছে। জানা গিয়েছে, মার্ক-৩ নির্মাণের কাজ প্রায় শেষের পথে এবং মার্ক-৪ ও ৫-এর ওপর গবেষণা চলছে।

বিদেশি অস্ত্রের দিন কি শেষ? ভারতীয় সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, পিনাকার এই উন্নত সংস্করণগুলো পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে গেলে ভারত আর বিদেশি রকেট সিস্টেমের ওপর নির্ভর করবে না। বর্তমানে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ৩০ শতাংশ দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করা হয়, লক্ষ্যমাত্রা হলো এই সংখ্যাটি দ্রুত ৫০ শতাংশে নিয়ে যাওয়া। পোখরানের এই সফল পরীক্ষা শুধু ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেই মজবুত করল না, বরং বিশ্ব বাজারে ভারতকে অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশ হিসেবেও এক কদম এগিয়ে দিল।