অসমের নম্বর প্লেট আর থরে থরে ৫০০-র নোট! নাকা চেকিংয়ে ধরা পড়ল ‘সুপারি কিং’, নেপথ্যে কি ভোটের কারচুপি?

নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি (Model Code of Conduct) জারি হতেই রাজ্যে কড়া নাকা চেকিং শুরু হয়েছে। আর সেই তল্লাশিতেই বুধবার আলিপুরদুয়ারে ধরা পড়ল এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। আলিপুরদুয়ার শহরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের চৌপথি সংলগ্ন বক্সা-ফিডার রোডে অসমের এক ব্যবসায়ীর গাড়ি থেকে উদ্ধার হলো লক্ষাধিক টাকা। গাড়ির ডিকি থেকে শুরু করে সানরুফ— সব জায়গা থেকেই বেরিয়ে এল ৫০০ এবং ১০০ টাকার নোটের বান্ডিল। সব মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া অর্থের পরিমাণ ৩ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে।
তদন্তে পুলিশের জালে ‘সুপারি ব্যবসায়ী’ পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত ব্যক্তির নাম বিকেন ঈশ্বরারি। তিনি অসমের একজন রেশন ডিলার এবং সুপারি ব্যবসায়ী। অসমের নম্বর প্লেট দেওয়া গাড়িটি দেখে সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ সেটিকে আটকায়। এরপর তল্লাশি শুরু করতেই চক্ষু চড়কগাছ তদন্তকারীদের। গাড়ির বিভিন্ন গোপন চেম্বার এবং যন্ত্রাংশের ফাঁক থেকে একের পর এক নোটের বান্ডিল বের হতে থাকে। পুলিশের সন্দেহ এড়াতেই কি এভাবে টাকা লুকিয়ে রাখা হয়েছিল? উঠছে প্রশ্ন।
ব্যবসায়ীর অদ্ভুত সাফাই আটক হওয়ার পর বিকেন ঈশ্বরারি দাবি করেছেন, তিনি এবং তাঁর স্ত্রী মঙ্গলবার আলিপুরদুয়ারে এসেছিলেন ঘুরতে এবং শপিং করতে। তাঁর দাবি, “আমি প্রায়ই শপিং করতে আলিপুরদুয়ার আসি। এই টাকা আমার নিজের উপার্জনের।” তবে প্রশ্ন উঠছে, শপিং করার জন্য টাকা কেন গাড়ির সানরুফ বা ডিকির গোপন কুঠুরিতে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল? এই প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি ওই ব্যবসায়ী। বর্তমানে গাড়ির প্রতিটি যন্ত্রাংশ খুলে আরও তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
ভোটের যোগসূত্র খুঁজছে প্রশাসন বাংলায় নির্বাচন দোরগোড়ায়। এই সময়ে ভিন রাজ্য থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার হওয়ায় এর পেছনে রাজনৈতিক কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। কোনো রাজনৈতিক দলকে সুবিধা পাইয়ে দিতে বা ভোটারদের প্রভাবিত করতে এই টাকা আনা হচ্ছিল কি না, সেই রহস্যভেদে নেমেছে আলিপুরদুয়ার থানার পুলিশ। ধৃত ব্যবসায়ীর আয়ের উৎস এবং কল রেকর্ডও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।