১০% অতিরিক্ত গ্যাস সিলিন্ডার! তবে মানতে হবে বিশেষ শর্ত, বিপাকে পড়া আমজনতার জন্য কী জানাল কেন্দ্র?

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আগুন এবার সরাসরি এসে লাগল ভারতের রান্নাঘরে। দেশজুড়ে এলপিজি (LPG) সিলিন্ডারের ক্রমবর্ধমান সঙ্কট নিয়ে বুধবার মুখ খুলল কেন্দ্র। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা এক সাংবাদিক বৈঠকে স্বীকার করে নিয়েছেন যে, এলপিজি পরিস্থিতি “এখনও উদ্বেগজনক”। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সবরকম চেষ্টা চালাচ্ছে।

বুকিং অনলাইন, ডেলিভারিতে কেন দেরি? সুজাতা শর্মা জানান, অনলাইন বুকিং ব্যবস্থার অনেক উন্নতি হলেও গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরদের সামনে লম্বা লাইন এখনও চিন্তার বিষয়। তাঁর অনুরোধ, “অনলাইন বুকিং করার পর একটু ধৈর্য ধরুন। সঠিক সময়ে সিলিন্ডার বাড়িতে পৌঁছে যাবে।” তিনি স্পষ্ট করেন যে, অকারণে আতঙ্কিত হয়ে সিলিন্ডার মজুত বা কালোবাজারি বন্ধ করতে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।

রাজ্যগুলোর জন্য কেন্দ্রের ‘কন্ডিশনাল’ প্রস্তাব বাণিজ্যিক গ্যাসের অভাব মেটাতে কেন্দ্র একটি বড় ঘোষণা করেছে। রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোকে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত বাণিজ্যিক এলপিজি বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে এর পেছনে একটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে মোদী সরকার। রাজ্যগুলোকে সাহায্য করতে হবে যাতে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো এলপিজি ছেড়ে পাইপলাইন গ্যাস (PNG)-এর দিকে সরে আসে। এর ফলে সিলিন্ডারের ওপর চাপ কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

পেট্রোল-ডিজেলের দাম ও ‘নন্দাদেবী’র আগমন গ্যাসের দাম নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকলেও পেট্রোল ও ডিজেল নিয়ে স্বস্তির খবর দিয়েছেন সুজাতা শর্মা। তিনি জানিয়েছেন, দেশে অপরিশোধিত তেলের জোগান স্বাভাবিক থাকায় এখনই দাম বাড়ছে না। অন্যদিকে, গ্যাস সঙ্কট মেটাতে ভারতের উপকূলে এসে পৌঁছেছে বিশালাকার জাহাজ ‘নন্দাদেবী’। প্রায় ৪৭ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি নিয়ে আসা এই জাহাজটি অন্তত একদিনের জাতীয় চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে। সরকারের বার্তা— আতঙ্কিত হবেন না, দেশে গ্যাসের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।