রুদ্রনীল বনাম ডক্টর রানা: শিবপুরের হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে কার পাল্লা ভারী? ভাইরাল অংকের হিসেব জানুন!

দক্ষিণ কলকাতার অভিজাত পাড়া ভবানীপুর থেকে সোজা গঙ্গার ওপারে হাওড়ার শিবপুর। অভিনেতা-নেতা রুদ্রনীল ঘোষের রাজনৈতিক ভাগ্য এবার নির্ধারিত হবে এই শিল্পাঞ্চলেই। ২০২১ সালে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় শাণিত আক্রমণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধছেন রুদ্র। তাঁর কবিতা আর রাজনৈতিক স্যাটায়ার বিজেপি কর্মীদের মনোবল বাড়ালেও, নির্বাচনী লড়াইয়ে সাফল্যের মুখ দেখা এখনও বাকি। গতবার ভবানীপুরে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের কাছে প্রায় ২৮ হাজার ভোটে হেরেছিলেন তিনি। এবার কি নিজের ‘ঘরের মাঠ’ শিবপুর রুদ্রকে বিধানসভার রাস্তা দেখাবে?

শিবপুরের ত্রিমুখী লড়াই ও প্রার্থীর ওজন শিবপুরে এবার লড়াইটা বেশ কঠিন। রুদ্রনীল নিজেকে ‘ঘরের ছেলে’ দাবি করে একে ‘অক্সিজেন সিলিন্ডার’ হিসেবে দেখছেন। তাঁর প্রধান প্রতিপক্ষ তৃণমূলের বিদায়ী বিধায়ক ডক্টর রানা চট্টোপাধ্যায়। গতবার বালি থেকে বৈশালী ডালমিয়াকে হারিয়ে বিধায়ক হয়েছিলেন রানা। এবার স্পোর্টস আইকন মনোজ তিওয়ারির বদলে রানার ওপর ভরসা রেখেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, বাম-কংগ্রেস জোটের প্রার্থী অভিজ্ঞ জগন্নাথ ভট্টাচার্য লড়াইকে ত্রিমুখী করে তুলেছেন।

জটু লাহিড়ি ফ্যাক্টর ও রাজনৈতিক ইতিহাস শিবপুরের রাজনীতি মানেই ছিল দীর্ঘকাল জটু লাহিড়ির দাপট। ১৯৯১ থেকে পাঁচবারের বিধায়ক জটু লাহিড়ি ২০২৩ সালে প্রয়াত হয়েছেন। তাঁর প্রয়াণের পর এই প্রথম ভোট দেখছে শিবপুর। ঐতিহাসিকভাবে এই আসনটি তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি। গত পাঁচবারের মধ্যে চারবারই এখানে ঘাসফুল ফুটেছে। একমাত্র ২০০৬ সালে বামেরা শেষবার এই আসনে জিতেছিল। ২০২১-এ মনোজ তিওয়ারি এখানে ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছিলেন। তবে বিজেপির জন্য ইতিবাচক দিক হলো, গত পাঁচ বছরে এই কেন্দ্রে পদ্ম শিবিরের ভোট বেড়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ, যার বড় অংশই এসেছে বামেদের ঘর থেকে।

ভোটের অঙ্ক কী বলছে? ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, হাওড়া লোকসভার অধীনে থাকা শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়েছিলেন ৭৯,৪৬৪ ভোট। অন্যদিকে, বিজেপির রথীন চক্রবর্তী পান ৬৫,২৫৮ ভোট। অর্থাৎ, লোকসভা ভিত্তিক তৃণমূল এখানে ১৪ হাজারের বেশি ভোটে এগিয়ে রয়েছে। বামেদের পকেটে রয়েছে প্রায় ২৬ হাজার ভোট। রুদ্রনীল যদি জিততে চান, তবে তাঁকে এই বাম ভোটব্যাঙ্কে ধস নামাতে হবে অথবা তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে অন্তত ১০ শতাংশের বেশি ‘সুইং’ নিশ্চিত করতে হবে।

জনতার রায় কোন দিকে? শিবপুরে এবার মূল ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনে নিকাশি ব্যবস্থা, বেহাল রাস্তাঘাট এবং কর্মসংস্থানের অভাব নিয়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, গত তিন বছরে বিধায়ক হিসেবে মনোজ তিওয়ারি এলাকার উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা নেননি। রুদ্রনীল কি এই জনরোষকে ব্যালট বক্সে রূপান্তর করতে পারবেন? নাকি ডক্টর রানার ক্লিন ইমেজ আর তৃণমূলের সুসংগঠিত ভোটব্যাঙ্কই শেষ হাসি হাসবে? উত্তর দেবে সময়।