ভোটের মুখে হুমায়ুন কবীরের ‘মাস্টারস্ট্রোক’! ১৮২ আসনে প্রার্থী দিয়ে তৃণমূল-বিজেপির অঙ্ক কি বিগড়ে দেবেন ভরতপুরের বিদায়ী বিধায়ক?

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের মুসলিম অধ্যুষিত জেলাগুলিতে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিলেন হুমায়ুন কবীর। বুধবার কলকাতায় এক সাংবাদিক বৈঠকে নিজের সংগঠন ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’-র প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেন তিনি। হুমায়ুন স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাঁর দল রাজ্যের মোট ১৮২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। আগামী রবিবার, ২২ মার্চ পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হবে।

সবচেয়ে বড় চমক হুমায়ুন কবীরের নিজের লড়াই ঘিরে। ভরতপুরের বর্তমান বিধায়ক হওয়া সত্ত্বেও এবার তিনি নিজের জেলা মুর্শিদাবাদের রেজিনগর এবং নওদা— এই দুই কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা শুভেন্দু অধিকারীর মতো গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের অনুকরণেই তিনি দুই কেন্দ্রে লড়ার কৌশল নিয়েছেন। তবে তাঁর মূল লক্ষ্য কোন বড় দল, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।

হুমায়ুনের তালিকায় আরও এক বড় চমক হলো কান্দি কেন্দ্রের প্রার্থী। সেখানে তিনি প্রার্থী করেছেন ইয়াসিন হায়দারকে, যিনি রাজ্যের প্রভাবশালী মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের প্রাক্তন জামাই হিসেবে পরিচিত। এছাড়াও পূর্বস্থলী উত্তর থেকে বাপন ঘোষ এবং বেহালা পূর্ব থেকে অনুপম রোহদগীরের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। মালদহের সুজাপুরে নাসিমুল হক এবং বৈষ্ণবনগরে মুসকরা বিবিকে প্রার্থী করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, মালদহ ও মুর্শিদাবাদের ভোটব্যাঙ্কে বড়সড় থাবা বসাতে প্রস্তুত তাঁর দল। একইসঙ্গে ভবানীপুর কেন্দ্রে এক অবাঙালি মুসলিম প্রার্থীকে দাঁড় করিয়ে তিনি শাসকদলের ওপর চাপ তৈরির কৌশল নিয়েছেন। ‘মিম’-এর সঙ্গেও সরাসরি লড়াইয়ের কথা বলে তিনি আসলে সংখ্যালঘু ভোটের মেরুকরণ ঘটাতে চাইছেন বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের।