তৃণমূলের তালিকায় বড় কোপ! বলাগড়ে ব্রাত্য মনোরঞ্জন, টিকিট হারালেন কাঞ্চন থেকে রত্না দে নাগও

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হতেই রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল। মঙ্গলবার তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর কালীঘাটের বাসভবন থেকে ২৯১টি আসনের পূর্ণাঙ্গ তালিকা ঘোষণা করতেই দেখা যায়, টিকিট পাননি বিদায়ী বিধায়ক তথা প্রখ্যাত সাহিত্যিক মনোরঞ্জন ব্যাপারী। শুধু তিনিই নন, হুগলি জেলা থেকে টিকিট হারিয়েছেন উত্তরপাড়ার কাঞ্চন মল্লিক, চুঁচুড়ার অসিত মজুমদার এবং পাণ্ডুয়ার রত্না দে নাগের মতো পরিচিত মুখেরা।
টিকিট না পাওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এক দীর্ঘ এবং আবেগঘন পোস্ট করেন বলাগড়ের বিদায়ী বিধায়ক। অভিমানে রাজনীতি থেকে কি দূরে সরে যাচ্ছেন তিনি? এই প্রশ্নই এখন জোরালো হচ্ছে রাজনৈতিক মহলে। মনোরঞ্জন বাবু লিখেছেন, “টিকিট যে পাব না, তা আগে থেকেই আন্দাজ করেছিলাম। তাই খবর শুনে আশ্চর্য হইনি, বরং দুপুরে খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।” তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তৃণমূল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রম ও ঘামে তৈরি দল, সেখানে কাকে টিকিট দেওয়া হবে তা একান্তই নেত্রীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।
নিজের বিধায়ক পদের মেয়াদকাল স্মরণ করে তিনি লেখেন, “বলাগড়বাসী আমাকে বহিরাগত মনে করেননি। আমি চেষ্টা করেছি বালি মাফিয়া, গরু পাচার এবং রেশন চোরদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে।” সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক সমালোচনা হলেও কেউ তাঁর গায়ে দুর্নীতির কালির ছিটে দিতে পারেনি। বিধায়ক থাকাকালীন লেখালেখিতে ভাঁটা পড়েছিল, এবার সেই কলমকেই আবার সঙ্গী করতে চান তিনি। তাঁর এই মন্তব্য থেকেই অনেকে মনে করছেন, সক্রিয় রাজনীতিকে হয়তো বিদায় জানাতে চলেছেন এই ‘চণ্ডাল জীবন’-এর লেখক। বলাগড় আসনে এবার তৃণমূল প্রার্থী করেছে রঞ্জন ধাড়াকে।