গ্যাসের দিন শেষ? ইন্ডাকশন চুলায় রান্না করলে মাসে কত বিদ্যুৎ বিল আসবে? জেনে নিন হিসেব

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এখন রান্নাঘরেও থাবা বসিয়েছে। গ্যাসের চড়া দাম আর সরবরাহের অনিশ্চয়তায় তিতিবিরক্ত সাধারণ মানুষ। এই পরিস্থিতিতে শহর ও শহরতলির রান্নাঘরে জায়গা করে নিচ্ছে ইন্ডাকশন কুকটপ ও ইলেকট্রিক রাইস কুকার। কিন্তু প্রশ্ন একটাই—মাসের শেষে বিদ্যুৎ বিল কি আকাশছোঁয়া হবে? চলুন দেখে নিই আসল অংকটা।

ইন্ডাকশন চুলায় কত ইউনিট খরচ হয়?

সাধারণত বাজারে ১০০০ থেকে ১২০০ ওয়াট ক্ষমতার ইন্ডাকশন চুলা বেশি জনপ্রিয়।

  • হিসেব: একটি ১২০০ ওয়াটের চুলা টানা ১ ঘণ্টা সর্বোচ্চ পাওয়ারে চালালে প্রায় ১.২ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়।

  • দৈনিক খরচ: ধরুন, একটি পরিবারে দিনে গড়ে ৪ ঘণ্টা রান্না হয়। সেক্ষেত্রে প্রতিদিন খরচ হবে প্রায় ৪.৮ ইউনিট (১.২ ইউনিট × ৪ ঘণ্টা)।

  • টাকার অংক: বিদ্যুতের গড় দাম ইউনিট প্রতি ৭ থেকে ৮ টাকা ধরলে, প্রতিদিনের খরচ দাঁড়াবে ৩৪ থেকে ৩৮ টাকার মতো।

মাসিক বাজেট কত?

হিসেব বলছে, একটি মাঝারি পরিবারে ইন্ডাকশন চুলায় সারামাসের রান্নার খরচ হতে পারে ১০০০ থেকে ১১৫০ টাকার মধ্যে। বর্তমানে একটি রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের দামের তুলনায় যা অনেকটাই সাশ্রয়ী। তবে রান্নার ধরন এবং পাওয়ার সেটিংসের ওপর এই খরচ কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।

বিদ্যুৎ বিল কমানোর ৫টি ‘মাস্টার টিপস’

ইন্ডাকশন চুলা ব্যবহার করেও বিদ্যুৎ বিল আরও কমিয়ে আনা সম্ভব। ফলো করুন এই টিপসগুলি: ১. ঢাকনা ব্যবহার: রান্নার সময় পাত্র ঢেকে রাখুন, এতে তাপ অপচয় কম হয় এবং রান্না দ্রুত শেষ হয়। ২. প্রেসার কুকার: ডাল বা মাংস রান্নার ক্ষেত্রে প্রেসার কুকার ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ খরচ এক ধাক্কায় অনেকটা কমে। ৩. সঠিক পাত্র: ইন্ডাকশনের জন্য নির্দিষ্ট ফেরো-ম্যাগনেটিক (চৌম্বকীয়) তলাযুক্ত পাত্র ব্যবহার করুন, যা দ্রুত গরম হয়। ৪. পাওয়ার সেটিং: জল ফোটানো বা শুরুর দিকে হাই পাওয়ার ব্যবহার করলেও, রান্নার মাঝে পাওয়ার কমিয়ে (Medium/Low) রাখুন। ৫. আগে থেকে প্রস্তুতি: সবজি কাটা বা মশলা তৈরির কাজ সেরে নিয়ে তবেই চুলা জ্বালান, যাতে অযথা বিদ্যুৎ অপচয় না হয়।

গ্যাসের ঝক্কি এড়িয়ে আধুনিক ও ধোঁয়াশনুন্য রান্নাঘরের জন্য ইন্ডাকশন চুলা হতে পারে আপনার সেরা বিকল্প। সঠিক নিয়ম মেনে ব্যবহার করলে এটি যেমন নিরাপদ, তেমনই পকেট-সাশ্রয়ী।