ভোটের মুখে কমিশনের ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’! ১৩ জেলাশাসক ও ৫ রেঞ্জের ডিআইজি বদল; নজিরবিহীন রদবদল বাংলায়

লোকসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই বাংলাজুড়ে প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ চালাল নির্বাচন কমিশন। আদর্শ আচরণবিধি বলবৎ হওয়ার পর থেকেই একের পর এক আইএএস এবং আইপিএস অফিসারকে সরিয়ে স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতে চাইছে কমিশন। ডিজিপি এবং পাঁচ পুলিশ কমিশনারকে সরানোর পর এবার এক ধাক্কায় ১৩ জন জেলাশাসক (DM) এবং ৫টি গুরুত্বপূর্ণ রেঞ্জের ডিআইজি-কে (DIG) বদলি করা হল। বুধবার নির্বাচন কমিশনের তরফে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নজিরবিহীন রদবদলের কথা জানানো হয়েছে।
কারা বদল হলেন, কারা এলেন?
কমিশনের তালিকা অনুযায়ী, রায়গঞ্জের ডিআইজি রাথোর অমিত কুমার ভরত, মুর্শিদাবাদের ডিআইজি অজিত সিং যাদব এবং বর্ধমানের ডিআইজি শ্রীহরি পান্ডেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের ডিআইজি কঙ্কর প্রসাদ বাউরি এবং জলপাইগুড়ি রেঞ্জের ডিআইজি অঞ্জলী সিংকেও বদল করা হয়েছে। অন্যদিকে উত্তর দিনাজপুর, মালদহ, নদিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতা, দার্জিলিং এবং আলিপুরদুয়ারের জেলাশাসকদের সরিয়ে নতুন মুখ আনা হয়েছে। উল্লেখ্য, রনধীর কুমার, স্মিতা পাণ্ডে এবং আর অর্জুনের মতো অফিসারদের বড় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাঁরা এর আগে রোল অবজারভার হিসেবে কমিশনের সরাসরি নজরদারিতে কাজ করেছেন।
রাজনৈতিক চাপানউতোর: শশী পাঁজা বনাম বিজেপি
কমিশনের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফের একবার শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী শশী পাঁজা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “বিজেপি সিবিআই-ইডি-কে ব্যবহার করার পর এবার বাংলার আইএএস-আইপিএসদের মধ্যে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছে। এটা অত্যন্ত অসম্মানজনক এবং অপ্রয়োজনীয়।” তাঁর দাবি, যাঁরা পদে ছিলেন এবং যাঁরা এলেন—সবাই যোগ্য, কিন্তু এই ঘন ঘন বদলি প্রশাসনের ওপর মানসিক চাপ তৈরি করছে। পাল্টা আক্রমণে বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, “প্রশাসনিক কর্তারা এতদিন সরকারের তল্পিবাহক হয়ে কাজ করেছেন। আরজি করের তথ্য প্রমাণ লোপাটই তার সবথেকে বড় প্রমাণ।” ভোটের ঠিক আগে এই বিশাল রদবদল যে শাসক দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ, তা বলাই বাহুল্য।