ধূপগুড়িতে শোরগোল! পৌরসভার জ্যাকেট পরেই তৃণমূলের ঝান্ডা লাগাচ্ছেন কর্মীরা? তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর আদর্শ আচরণ বিধি (Model Code of Conduct) বলবৎ হতেই ধূপগুড়িতে তৈরি হল প্রবল বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, ধূপগুড়ি পৌরসভার পোশাক বা জ্যাকেট পরিহিত অস্থায়ী সরকারি কর্মীদের দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রচার ও দলীয় পতাকা লাগানোর কাজ করানো হচ্ছে। বুধবার ধূপগুড়ির ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে এই ঘটনা ক্যামেরাবন্দি হতেই রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিজেপি এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ জানানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

ঘটনার বিবরণ ও ভাইরাল ভিডিও
স্থানীয় সূত্রে খবর, ধূপগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী নির্মল চন্দ্র রায়ের সমর্থনে এদিন এলাকায় দলীয় পতাকা লাগানো হচ্ছিল। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি পৌরসভার লোগো দেওয়া সরকারি জ্যাকেট পরেই বাঁশে তৃণমূলের পতাকা বাঁধছেন। তাঁদের মধ্যে কুলিন রায় নামে এক সাফাই কর্মী স্বীকার করেন যে, তিনি পৌরসভার কর্মী এবং নির্দেশ মেনেই পতাকা লাগাচ্ছেন। তাঁর কথায়, “ভোট এসে গিয়েছে, তাই পতাকা লাগাচ্ছি। আমাদের যেখানে বলা হবে, সেখানেই লাগাতে হবে।”

বিজেপির আক্রমণ ও তৃণমূলের সাফাই
বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূলের নিচুতলায় কর্মী সঙ্কট এতটাই চরম যে তারা এখন সরকারি কর্মচারীদের ভয় দেখিয়ে দলীয় কাজে ব্যবহার করছে। বিজেপি নেতা পাপাই বসাক বলেন, “সরকারি অর্থে নিযুক্ত কর্মীদের দিয়ে দলীয় কাজ করানো স্পষ্ট বিধিভঙ্গ। আমরা কমিশনের কাছে এর প্রতিকার চাইব।” অন্যদিকে, তৃণমূলের জেলা সভাপতি রাজেশ কুমার সিং এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, “পৌরসভা এমন কোনও নির্দেশ দেয়নি। কেউ যদি ছুটির দিনে বা কাজের বাইরে ব্যক্তিগত উৎসাহে পতাকা লাগান, তবে সেটা অপরাধ নয়। আমরা রেজিস্টার চেক করলেই বুঝে যাব ওই কর্মীরা ডিউটিতে ছিলেন কি না।”