অসমে কংগ্রেসের সলিল সমাধি? ভোটের মুখে হিমন্তের হাত ধরে পদ্মশিবিরে সাংসদ প্রদ্যুৎ বোরদলোই!

অসমে লোকসভা নির্বাচনের দামামা বাজার ঠিক আগেই বড়সড় ভূমিকম্প হয়ে গেল কংগ্রেস শিবিরে। মঙ্গলবার মল্লিকার্জুন খাড়্গেকে ইস্তফাপত্র পাঠানোর পর, বুধবার সশরীরে বিজেপিতে যোগ দিলেন অসমের দু’বারের দাপুটে সাংসদ প্রদ্যুৎ বোরদলোই। দিল্লির এক অনুষ্ঠানে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ সাইকিয়ার উপস্থিতিতে গেরুয়া উত্তরীয় গায়ে জড়ালেন তিনি। আগামী ৯ এপ্রিল অসমে ভোট, তার মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে প্রদ্যুতের এই দলবদল কংগ্রেসের কফিনে শেষ পেরেক হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
“মাথা উঁচু করে বাঁচতে চাই”: বিস্ফোরক প্রদ্যুৎ
বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর প্রদ্যুৎ বোরদলোই স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর এই সিদ্ধান্ত টিকিটের জন্য নয়, বরং আত্মসম্মানের জন্য। তিনি বলেন, “কংগ্রেস আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে, কিন্তু সেখানে সম্মানের সঙ্গে থাকা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সাংসদ হিসেবে আমার আরও তিন বছর মেয়াদ বাকি আছে। আমি চাইলে অপমান সহ্য করে পদে থাকতে পারতাম, কিন্তু আমি মাথা উঁচু করে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” তাঁর এই মন্তব্য বুঝিয়ে দিয়েছে যে, অসম কংগ্রেসের অন্দরে দীর্ঘদিনের ক্ষোভই তাঁকে এই চরম সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
তাসের ঘরের মতো ভাঙছে সংগঠন
প্রদ্যুৎ বোরদলোইয়ের এই প্রস্থান একক ঘটনা নয়। গত মাসেই অসম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি ভূপেন কুমার বোরা ‘ভগ্নহৃদয়ে’ দল ছেড়েছিলেন। রাজ্য নেতাদের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে বোরার পদত্যাগের রেশ কাটতে না কাটতেই প্রদ্যুতের চলে যাওয়া কংগ্রেসের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। এআইসিসি-র উত্তর-পূর্ব ভারতের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা সুব্রত বোরা এই পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক’ বলে বর্ণনা করেছেন।
৯ এপ্রিলের আগে সুবিধাজনক অবস্থানে হিমন্ত
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা কৌশলী চালে একের পর এক কংগ্রেস হেভিওয়েটকে নিজের শিবিরে টেনে নিচ্ছেন। প্রদ্যুৎ বোরদলোইয়ের মতো অভিজ্ঞ নেতার বিজেপিতে অন্তর্ভুক্তি কেবল ভোটের অঙ্কেই নয়, সাংগঠনিকভাবেও বিজেপিকে কয়েক কদম এগিয়ে দিল। এখন দেখার, এই ব্যাপক ভাঙনের পর ৯ এপ্রিলের নির্বাচনে কংগ্রেস আদৌ কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে কি না, নাকি অসম কার্যত বিরোধী শূন্য হয়ে পড়ে।