২০২৬-এর মহাযুদ্ধ: মমতার ‘মাস্টারস্ট্রোক’! সংখ্যালঘু ও নারীশক্তিতেই কি কেল্লাফতে তৃণমূলের?

বাংলার বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই ঘনীভূত হচ্ছে ভোটের সমীকরণ। ২০২৬-এর এই মহাযুদ্ধে জয় ছিনিয়ে নিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ‘সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর ওপর ভরসা রেখেছেন, তা প্রার্থী তালিকা থেকেই স্পষ্ট। বিশেষ করে সংখ্যালঘু এবং নারীশক্তির ওপর দাঁড়িয়ে তৃণমূল কংগ্রেস যে রণকৌশল সাজিয়েছে, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এক প্রকার ‘চেকমেট’। ২০১১ সাল থেকে রাজ্যের মুসলিম ভোটব্যাঙ্কে তৃণমূলের যে একচেটিয়া প্রভাব রয়েছে, তা আরও মজবুত করতে এবার প্রার্থী তালিকায় নজিরবিহীন বদল এনেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
সংখ্যালঘু ভোট: তৃণমূলের বড় বাজি
২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূলের সংখ্যালঘু প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ৩৫। ২০২৬-এ সেই সংখ্যা একলাফে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪৭। অর্থাৎ প্রায় ৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি। রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ১২৫টিতে মুসলিম ভোটাররা নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করেন। বিশেষ করে ৭০টি আসনে জয়-পরাজয় সরাসরি নির্ভর করে এই ভোটব্যাঙ্কের ওপর। তৃণমূলের এই কৌশলী পদক্ষেপ সরাসরি সেই আসনগুলিকে সুরক্ষিত করার চেষ্টা। অন্যদিকে, বিজেপির প্রথম দফার তালিকায় কোনও মুসলিম মুখ না থাকা নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সাফাই, “যেখানে দলের সমর্থন বেশি, সেখানেই প্রার্থী দেওয়া হয়েছে।”
নারীশক্তি ও সংরক্ষিত আসনের সমীকরণ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই মহিলা ভোটারদের নিজের ‘লক্ষ্মী’ মনে করেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ২০২১-এর ৫০ জন মহিলা প্রার্থীর বদলে এবার ৫২ জনকে টিকিট দিয়েছেন তিনি। বিপরীতে বিজেপি ও বাম শিবিরের তালিকায় মহিলাদের উপস্থিতি অত্যন্ত নগণ্য। বিজেপির ১৪৪ জনের মধ্যে মাত্র ১১ জন এবং বামেদের ১৯২ জনের মধ্যে মাত্র ২৮ জন মহিলা প্রার্থী রয়েছেন। অর্থাৎ মহিলা প্রতিনিধিত্বের নিরিখে তৃণমূল কয়েক যোজন এগিয়ে।
তফশিলি তাস ও তৃণমূলের দাপট
শুধু সংখ্যালঘু বা মহিলা নয়, তফশিলি জাতি (SC) ও উপজাতি (ST) ভোটারদের মন জয়েও মরিয়া ঘাসফুল শিবির। সংরক্ষিত আসনের সীমানা ছাড়িয়ে মোট ৯৫ জন SC-ST প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৭৮ জন SC এবং ১৭ জন ST প্রার্থী রয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ত্রিমুখী কৌশলে—সংখ্যালঘু, মহিলা এবং তফশিলি ভোট—তৃণমূল যদি সফল হয়, তবে ২০২৬-এর বৈতরণী পার হওয়া তাদের জন্য অনেক সহজ হয়ে যাবে। এখন দেখার, বিরোধীরা এই ‘ভোট-অঙ্ক’ কাটতে কী পাল্টা চাল দেয়।