‘মা’-এর বিরুদ্ধেই ভোটযুদ্ধে রঞ্জন, লড়াইয়ের আগে আশীর্বাদ নিতে যাচ্ছেন প্রতিপক্ষের ঘরেই?

রাজনীতির ময়দান মানেই কাদা ছোড়াছুড়ি আর ব্যক্তিগত আক্রমণ—এই চেনা ছবিটাই বদলে দিতে চলেছে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্র। এখানে লড়াই স্রেফ তৃণমূল বনাম বিজেপির নয়, লড়াই ‘মা’ বনাম ‘ছেলের’। শিলিগুড়ি পুরসভার দাপুটে কাউন্সিলর রঞ্জন শীলশর্মা ঘাসফুল শিবিরের প্রার্থী হতেই উত্তরবঙ্গের এই কেন্দ্রে এখন জোর চর্চা। কারণ, তাঁর প্রধান প্রতিপক্ষ বিজেপি বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়, যাঁকে রঞ্জন দীর্ঘকাল ধরে ‘মা’ বলে মান্য করেন।
প্রতিপক্ষই যখন ‘মাতৃসম’
মঙ্গলবার তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। রঞ্জন শীলশর্মা জানিয়েছেন, ভোটযুদ্ধের প্রচার শুরু করার আগে তিনি তাঁর প্রতিপক্ষ শিখা চট্টোপাধ্যায়ের আশীর্বাদ নেবেন।
“নিজের জন্মদাত্রী মাকে হারানোর পর থেকে শিখা দেবীকেই মায়ের আসনে বসিয়েছি। লড়াই রাজনৈতিক আদর্শের হতে পারে, কিন্তু ব্যক্তিগত শ্রদ্ধায় কোনো কমতি নেই। তাই যুদ্ধে নামার আগে ওঁর আশীর্বাদ নেওয়াটা আমার কাছে অত্যন্ত জরুরি।” — জানালেন রঞ্জন শীলশর্মা।
সহযোদ্ধা থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী: ফিরে দেখা ইতিহাস
রঞ্জন ও শিখার এই সম্পর্কের রসায়ন দীর্ঘদিনের।
-
শিক্ষক আন্দোলন: বাম আমলের কঠিন সময়ে তৃণমূলের শিক্ষক আন্দোলনে এই দুজনেই ছিলেন কাঁধে কাঁধ মেলানো সহযোদ্ধা।
-
পেশাগত মিল: দুজনেই পেশায় শিক্ষক। শিখা দেবী এখন অবসরপ্রাপ্ত, রঞ্জনবাবু এখনও শিক্ষকতা করছেন। এই পেশাগত ও রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতাই তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্ককে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল।
চ্যালেঞ্জ এবার কঠিন
২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রেই তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী গৌতম দেবকে পরাজিত করেছিলেন শিখা চট্টোপাধ্যায়। পরে তিনি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। এবার সেই কেন্দ্র পুনরুদ্ধার করতেই মমতায় বন্দ্যোপাধ্যায় ভরসা রেখেছেন ‘ক্লিন ইমেজ’-এর রঞ্জনের ওপর।
ব্যক্তিগত সম্পর্কের খাতিরে রঞ্জন কি পারবেন ‘মা’-এর দুর্গ ভাঙতে? নাকি অভিজ্ঞ শিখা দেবী ফের ম্যাজিক দেখাবেন? উত্তর দেবে ব্যালট বক্স, তবে তার আগে উত্তরবঙ্গের এই সৌজন্যের রাজনীতি মন জয় করছে নেটিজেনদের।