আইপ্যাক তল্লাশিতে মুখ্যমন্ত্রীর ‘অনুপ্রবেশ’! সুপ্রিম কোর্টে তুলকালাম, রাজ্যের আর্জি খারিজ করে চরম হুঁশিয়ারি বিচারপতির

আইপ্যাক (I-PAC) অফিসে ইডি-র তল্লাশি অভিযানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘হস্তক্ষেপ’ সংক্রান্ত মামলায় আবারও সুপ্রিম কোর্টের তোপের মুখে পড়ল রাজ্য সরকার। বুধবার বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চে রাজ্যের পক্ষ থেকে বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিব্বল পুনরায় সময় চেয়ে আবেদন করলে আদালত তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে। সলিসেটর জেনারেল তুষার মেহতা এই সময় চাওয়ার বিষয়টিকে ‘সময় নষ্ট করার কৌশল’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুতর বলে বর্ণনা করেন।

ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের শুরুতে, যখন কয়লা দুর্নীতি মামলার তদন্তে আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাসভবন ও সল্টলেক অফিসে তল্লাশি চালায় ইডি। কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযোগ, তল্লাশি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে সেখানে ঢুকে পড়েন এবং তদন্তে বাধা দেন। এমনকি ইডি-র হলফনামায় দাবি করা হয়েছে, রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর মুখোমুখি সংঘর্ষ এড়াতে তারা তল্লাশি বন্ধ করতে বাধ্য হয় এবং মুখ্যমন্ত্রী প্রভাব খাটিয়ে সেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে বেরিয়ে যান।

এদিন আদালতে রাজ্যের আইনজীবী শ্যাম দেওয়ান ইডি-র মামলার আইনি বৈধতা (Maintainability) নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর সওয়াল, ইডি কোনো ‘জুরিস্টিক এনটিটি’ নয়, তাই সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তারা মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে মামলা করতে পারে না। রাজ্যের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো অনুযায়ী কোনো সরকারি সংস্থা নয়, বড়জোর ভারত সরকার বা রাজ্য সরকার মামলা করতে পারে। যদি ইডি-র মতো সংস্থাকে এই ক্ষমতা দেওয়া হয়, তবে সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ গঠন করে নতুন করে এক্তিয়ার নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

তবে রাজ্যের এই যুক্তি বিশেষ আমল দেয়নি শীর্ষ আদালত। বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র কড়া ভাষায় বলেন, “একজন মুখ্যমন্ত্রী যেখানে কেন্দ্রীয় সংস্থা তদন্ত করছে, সেখানে বলপূর্বক ঢুকে পড়ছেন—এটা কোনো সুখকর চিত্র নয়। আজ যদি ইডি মামলা করতে না পারে, তবে কাল অন্য কোনো মুখ্যমন্ত্রীও একই কাজ করবেন।” সলিসেটর জেনারেল তুষার মেহতাও যোগ করেন, “একজন মুখ্যমন্ত্রীর তদন্তে এভাবে হস্তক্ষেপ করা অত্যন্ত ‘আনইউজুয়াল’ বা অস্বাভাবিক।” ইতিমধ্যেই রাজ্যকে চার সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছিল, তবুও বুধবার নতুন করে সময় চাওয়ায় আদালত বিরক্তি প্রকাশ করেছে। ভোট কুশলী সংস্থার অফিসে এই অভিযান নিয়ে রাজ্যের পাল্টা দাবি ছিল, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক তথ্য হাতিয়ে নিতেই এই পদক্ষেপ করেছিল ইডি। এই আইনি লড়াই এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।