ভোটের বাংলায় ‘শুকনো’ কলতলা! ‘সব দোষ বিজেপির’, মুখ্যমন্ত্রীর তত্ত্বের মাঝেই আইরনযুক্ত জল খেয়ে অসুস্থ হওয়ার আতঙ্ক

লোকসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। এরই মধ্যে মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লকের সিমলা গ্রামে দেখা দিল তীব্র পানীয় জল সংকট। দীর্ঘ তিন মাস ধরে গ্রামবাসী পরিশ্রুত পানীয় জল থেকে বঞ্চিত। পরিস্থিতি এতটাই চরমে পৌঁছেছে যে, মঙ্গলবার বালতি ও কলসি হাতে নিয়ে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভে শামিল হলেন গ্রামবাসীরা। আর এই বিক্ষোভ ঘিরেই এখন রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
গত মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী তালিকা ঘোষণার আগে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে রাজ্যের একাধিক উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক আমলাদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে যদি কোথাও কোনো বিপর্যয় ঘটে, পানীয় জলের সংকট দেখা দেয় বা আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হয়, তবে তার দায় রাজ্য সরকার নেবে না। যাবতীয় দায়ভার নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপি-কে নিতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই আশঙ্কার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হরিশ্চন্দ্রপুরে জলের দাবিতে এই জনরোষ কার্যত সেই জল্পনাকেই উসকে দিয়েছে।
স্থানীয় সিমলা গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। রাঙ্গাইপুর পিএইচই (PHE) প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামে জল সরবরাহ হওয়ার কথা থাকলেও, গত তিন মাস ধরে একটি ফোঁটা জলও পড়েনি ট্যাপকলে। অভিযোগের তির পাম্প অপারেটর সামসুল হকের দিকে। গ্রামবাসীদের দাবি, পরিশ্রুত পানীয় জল সাধারণ মানুষের ঘরে না পাঠিয়ে, পাম্প অপারেটর সেই জল অর্থের বিনিময়ে মাখনা এবং ভুট্টার জমিতে সেচের জন্য সরবরাহ করছেন।
গ্রামের বাসিন্দা তানজিমা খাতুন ও হুসনেরা খাতুনরা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “তিন মাস ধরে কলের জল পাই না। গ্রামের অধিকাংশ নলকূপও বিকল হয়ে পড়ে আছে। ভূগর্ভস্থ জলস্তর নিচে নেমে যাওয়ায় সাধারণ টিউবওয়েলে জল উঠছে না। অথচ পাম্প অপারেটর আমাদের জল মাখনা খেতে দিচ্ছেন। বারবার জানিয়েও কোনো কাজ হয়নি।”
এদিকে অভিযুক্ত পাম্প অপারেটর সামসুল হক তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের আংশিক সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছেন। তাঁর দাবি, “দুটি পাম্পের মধ্যে একটি দীর্ঘ ছয় মাস ধরে বিকল। অন্যটি দিয়ে জল সরবরাহ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এখন সেই পাম্পটিও বিকল হয়ে গিয়েছে।” তবে চাষ জমিতে জল দেওয়ার বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা সরব হয়েছেন। সামনেই পবিত্র ইদ, আর তার আগেই এই জলসংকট গ্রামবাসীদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দিয়েছে। একদিকে মুখ্যমন্ত্রীর ‘দায়ভার’ সংক্রান্ত মন্তব্য, অন্যদিকে প্রশাসনিক উদাসীনতায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি—সব মিলিয়ে ভোটের আগে যথেষ্ট অস্বস্তিতে প্রশাসন।