টাকার কাছে হেরে গেলাম! টিকিট না পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ৪ বারের তৃণমূল বিধায়ক খগেশ্বর

ভোটের দামামা বাজতেই উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে আছড়ে পড়ল এক বিশাল ঢেউ। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকা ঘোষিত হতেই ক্ষোভের দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে। চারবারের দাপুটে বিধায়ক এবং জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান খগেশ্বর রায়কে এবার প্রার্থী করেনি দল। এই সিদ্ধান্তের কথা জানাজানি হতেই সংবাদমাধ্যমের সামনে ডুকরে কেঁদে উঠলেন এই প্রবীণ রাজনীতিক। একইসঙ্গে টিকিট না পাওয়ার প্রতিবাদে জেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তিনি, যা তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় অস্বস্তি তৈরি করেছে।

কান্নায় ভেঙে পড়লেন খগেশ্বর:
বিদায়ী বিধায়ক খগেশ্বর রায়ের দীর্ঘ রাজনৈতিক কেরিয়ারে এমন দিন আগে আসেনি। আজ তিনি অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, “দুঃখে চোখে জল চলে আসছে। আমি টানা চারবার জিতে দলকে এই আসন উপহার দিয়েছি। অথচ আজ দল আমার সাথে অবিচার করল।” শুধু আক্ষেপ নয়, সরাসরি দুর্নীতির অভিযোগও তুলেছেন তিনি। তাঁর বিস্ফোরক দাবি, “আমি আজ টাকার কাছে হেরে গেলাম। নিশ্চিতভাবেই কেউ বিপুল পরিমাণ টাকা দিয়েছে বলেই এবার প্রার্থী হতে পেরেছে। যে কোনোদিন রাজনীতির ময়দানে ছিল না, তাকেই টিকিট দেওয়া হলো।”

স্বপ্না বর্মনকে নিয়ে বিক্ষোভ:
রাজগঞ্জ আসনে এবার তৃণমূলের বাজি এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মন। কিন্তু মাটির নেতাকে ছেড়ে গ্ল্যামারাস প্রার্থীকে মেনে নিতে পারছেন না রাজগঞ্জের ঘাসফুল শিবিরের কর্মীরা। খগেশ্বর রায়ের অনুগামীরা রাস্তায় নেমে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের সাফ কথা, ‘ভূমিপুত্র খগেশ্বর রায়কেই প্রার্থী চাই’। অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মনকে ‘বহিরাগত’ তকমা দিয়ে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেন, যা নির্বাচনী বৈতরণী পার করতে তৃণমূলের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দলে বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা:
খগেশ্বর রায় হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতিতে রাজগঞ্জে তৃণমূলের জেতা অসম্ভব। তাঁর দাবি, ইতিমধ্যেই তাঁর সমর্থনে থাকা অসংখ্য কর্মী ও ব্লক স্তরের নেতারা দল থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। যদিও তিনি জানিয়েছেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা অটুট, তবে অন্য দলে যোগ দেবেন কি না সে নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রেখেছেন।

রাজনৈতিক মহলের মতে, খগেশ্বর রায়ের মতো পোড়খাওয়া নেতাকে বাদ দেওয়া রাজগঞ্জে তৃণমূলের সংগঠনে বড়সড় ধস নামাতে পারে। একদিকে বিদায়ী বিধায়কের কান্না আর অন্যদিকে সাধারণ কর্মীদের ক্ষোভ— সব মিলিয়ে রাজগঞ্জ এখন তৃণমূলের মাথাব্যথার অন্যতম কারণ।