“ন্যাড়া বেলতলায় বারবার যায় না!” মমতা ও শুভেন্দুকে নিয়ে খড়গপুরে দাঁড়িয়ে বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ

২০২৬-এর মহাযুদ্ধের দামামা বাজতেই নিজের গড় খড়গপুরে ‘মাটি কামড়ে’ পড়ে রয়েছেন বিজেপির দাপুটে নেতা দিলীপ ঘোষ। বুধবার সকাল থেকেই জনসংযোগে ব্যস্ত তিনি। প্রচারকে কেবল ‘ফরমালিটি’ বলে উড়িয়ে দিয়ে দিলীপ স্পষ্ট জানালেন, তিনি সারাবছর মানুষের পাশে থাকায় বিশ্বাসী। এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে একদিকে যেমন খড়গপুরে জয়ের ব্যবধান নিয়ে হুঙ্কার দিলেন, তেমনই তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন।
খড়গপুরে জয়ের অঙ্ক ও প্রতিপক্ষকে খোঁচা:
নিজের জেতার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী দিলীপ ঘোষ বলেন, “আমার স্কোর ২-০। আমি দুবার লড়ে দুবারই জিতেছি। আর আমার প্রতিপক্ষ একবার হেরেছেন, একবার জিতেছেন। খড়গপুরে লড়াই কোনো ব্যক্তির সঙ্গে নয়, লড়াই দলের সঙ্গে। এবার আমাদের লক্ষ্য জয়ের ব্যবধান ১ লাখে নিয়ে যাওয়া।” প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খড়গপুরে প্রচারে আসবেন কি না, তা কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ঠিক করবে বলেও জানান তিনি।
নন্দীগ্রাম ও তৃণমূলের ‘প্রার্থী ধার’ প্রসঙ্গে কটাক্ষ:
নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে তৃণমূলের প্রার্থী পবিত্র করকে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দিলীপের টিপ্পনী, “তৃণমূলের কাছে নন্দীগ্রামে লড়ার মতো যোগ্য প্রার্থী নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো আর ওখানে দাঁড়ানোর সাহস দেখাবেন না। কারণ, ন্যাড়া বেলতলায় বারবার যায় না! তাই আমাদের থেকে প্রার্থী ধার নিয়ে লড়াই করতে হচ্ছে। উল্টে আমরাই মুখ্যমন্ত্রীকে ধাওয়া করে ভবানীপুর পাঠিয়ে দিয়েছি।”
“চোর বাছতে গাঁ উজাড়” – দুর্নীতি নিয়ে আক্রমণ:
তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা থেকে ৭৪ জন বিদায়ী বিধায়ককে বাদ দেওয়া প্রসঙ্গে দিলীপ বলেন, “তৃণমূলে দাগী নয় এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া মুশকিল। চোর বাছতে গেলে গাঁ উজাড় হয়ে যাবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন বিষম পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছেন। আগে বলতেন ২৯৪টি আসনেই তিনি প্রার্থী, কিন্তু সেই দিন এখন অতীত। ওনার দল এখন দুর্নীতির প্রতীক হয়ে গিয়েছে।”
নির্বাচন কমিশন, আদালত নাকি কেন্দ্রীয় বাহিনী—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কার বিরুদ্ধে লড়বেন তা বুঝতে পারছেন না বলে দাবি করে দিলীপ ঘোষের শেষ কথা, “রাজ্যে পরিবর্তন হবেই।”