পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের দাবানল! ট্রাম্পের পাশে নেই কেউ? হরমুজ প্রণালী নিয়ে বড় বিপাকে আমেরিকা

পশ্চিম এশিয়ার আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী। ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার সংঘাত আজ ১৮ দিনে পদার্পণ করল, কিন্তু পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার বদলে আরও জটিল হয়ে উঠছে। এই যুদ্ধের সবথেকে বড় প্রভাব পড়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথ ‘হরমুজ প্রণালী’র ওপর। ইরান কার্যত এই পথটি শত্রুপক্ষের জন্য বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাতটি বন্ধু রাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন। হোয়াইট হাউস থেকে ট্রাম্পের আক্ষেপভরা বার্তা, “আমরা ন্যাটোর পাশে থেকেছি, ইউক্রেনকেও সাহায্য করেছি; এখন দেখার আমাদের প্রয়োজনে কারা এগিয়ে আসে।”
যদিও রোববার সাহায্যের আবেদন জানিয়েছিলেন, ঠিক তার একদিন পরেই সুর কিছুটা নরম করেছেন ট্রাম্প। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে এই সংঘাত খুব শীঘ্রই শেষ হতে পারে। তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করেছেন যে, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই শান্তি ফিরবে—এমনটা ভাবা ঠিক হবে না। ট্রাম্পের কথায়, “এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হবে না এবং যুদ্ধ শেষে বিশ্ব আরও নিরাপদ হয়ে উঠবে।” কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, যেখানে মিত্র দেশগুলি এখনও যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে দ্বিধাগ্রস্ত, সেখানে ট্রাম্প কি কার্যত একা হয়ে পড়ছেন?
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েল যৌথভাবে ইরানে যে হামলা চালিয়েছিল, তার প্রতিক্রিয়া যে এত দ্রুত এবং ভয়াবহ হবে, তা আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও আন্দাজ করতে পারেনি। ইরানের পাল্টা ড্রোন হামলায় সোমবার দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে একটি তেলের ট্যাঙ্কারে আগুন ধরে যায়। এর ফলে দুবাইগামী বিমান পরিষেবা পুরোপুরি বিপর্যস্ত। ভারত থেকেও দুবাইগামী সমস্ত বিমান আপাতত বাতিল করা হয়েছে। মাঝ আকাশ থেকে বহু বিমানকে ফিরে আসতে হয়েছে।
যুদ্ধের এই আবহে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকা মানে বিশ্ব অর্থনীতিতে ধস নামা। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে কি না, নাকি এটি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্বাভাস—তা নিয়েই এখন চিন্তিত আন্তর্জাতিক মহল। আপাতত ভারতসহ বিশ্বের একাধিক দেশ তাদের নাগরিকদের পশ্চিম এশিয়া ভ্রমণের ক্ষেত্রে সতর্কতা জারি করেছে।