শহরজুড়ে এলপিজির হাহাকার! জ্বালানি সংকটে থমকে তিলোত্তমার চাকা, বিপাকে হাজার হাজার অটোচালক

কলকাতাসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে এলপিজির তীব্র হাহাকারে কার্যত পঙ্গু হয়ে পড়েছে অটো পরিষেবা। গত ১০ দিনেরও বেশি সময় ধরে কলকাতার একাধিক পাম্প ‘ড্রাই’ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন কয়েক হাজার অটোচালক। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, ব্যারাকপুর, ডানলপ, বেলঘড়িয়া কিংবা শ্যামবাজারের অটোচালকরা জ্বালানির খোঁজে ভিড় জমাচ্ছেন হাওড়ার পাম্পগুলিতে। আর এই ‘বাইরের’ চালকদের আগমনেই এখন রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে হাওড়ার পাম্পগুলো।
স্থানীয় সূত্রে খবর, হাওড়ার পাম্পগুলিতে এমনিতেই সরবরাহ তলানিতে। যেখানে একটি এলপিজি ট্যাংক খালি হতে তিন-চার দিন সময় লাগত, সেখানে এখন একদিনেই গ্যাস শেষ হয়ে যাচ্ছে। এর কারণ হলো শহর ও শহরতলির কয়েকশ অটোচালকের হাওড়ায় উপচে পড়া ভিড়। ব্যারাকপুর থেকে আসা এক অটোচালক জানান, “সকালবেলা প্রায় ৩০০ টাকা খরচ করে হাওড়ায় এসেছি গ্যাসের আশায়। এখন দেখছি এখানেও গ্যাস নেই। গাড়িতে যা জ্বালানি আছে, তাতে বাড়ি ফেরারও উপায় নেই।” একদিকে জ্বালানির অভাব, অন্যদিকে পুলিশের কড়াকড়ি—সব মিলিয়ে নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় চালকদের।
এদিকে কলকাতার চালকরা হাওড়ায় এসে ভিড় করায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় অটোচালকরা। তাঁদের দাবি, সংকটকালে স্থানীয়দের বঞ্চিত করে কেন বাইরের চালকদের গ্যাস দেওয়া হচ্ছে? এই নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও বচসা এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন পাম্প কর্মীরা। পাম্পের বাইরে অটোর দীর্ঘ লাইন থাকলেও, অধিকাংশ চালকই শূন্য হাতে ফিরছেন।
পেট্রোল পাম্প ম্যানেজারদের মতে, এই সংকটের নেপথ্যে রয়েছে পশ্চিম এশিয়ায় শুরু হওয়া যুদ্ধ। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে গত দু’সপ্তাহ ধরে এলপিজি আমদানিতে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার গ্যাস আমদানির আশ্বাস দিলেও বাস্তবে সরবরাহে বড়সড় ঘাটতি রয়েছে। কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছুই বলতে পারছে না পাম্প কর্তৃপক্ষ। ফলে সাধারণ যাত্রীরাও যেমন গন্তব্যে পৌঁছতে নাকাল হচ্ছেন, তেমনই রুটিরুজি হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটছে অটোচালকদের।