শিবপুরে বড় চমক বিজেপির! ঘরের ছেলে রুদ্রনীলকে কি ফেরাবে জনতা?

২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা আনুষ্ঠানিকভাবে বেজে উঠল। সপ্তাহের শুরুতেই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়ে বাম এবং বিজেপি তাদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। বামেদের তালিকা সামনে আসার কিছুক্ষণের মধ্যেই গেরুয়া শিবির তাদের প্রথম দফার ১৪৪ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে চমক দিয়েছে। এই তালিকায় সবথেকে বড় চমক হাওড়ার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র শিবপুর, যেখানে অভিনেতা-রাজনীতিবিদ রুদ্রনীল ঘোষকে প্রার্থী করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি।
রুদ্রনীল ঘোষের জন্য এই লড়াই কার্যত মর্যাদার লড়াই। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের নির্বাচনে তিনি হাই-প্রোফাইল ভবানীপুর কেন্দ্রে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। সেই যাত্রায় প্রায় ২৮ হাজার ৭১৯ ভোটের ব্যবধানে তাঁকে হারের মুখ দেখতে হয়েছিল। তবে হারের পরেও দমে যাননি তিনি। গত পাঁচ বছরে দলের সাংগঠনিক কাজে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন কর্মসূচীতে তাঁর উপস্থিতি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের গুডবুকে তাঁকে জায়গা করে দিয়েছে। তাঁর এই নিরলস প্রচেষ্টার পুরস্কার হিসেবেই বিজেপি তাঁকে পুনরায় একটি হেভিওয়েট আসনে লড়াই করার সুযোগ দিল।
শিবপুরের সঙ্গে রুদ্রনীলের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। এই এলাকাটি তাঁর নিজের শহর, এখানেই বড় হয়ে ওঠা। শিবপুরের ‘ঘরের ছেলে’ রুদ্রনীল এখান থেকেই কলকাতায় এসে অভিনয়ের দুনিয়ায় নিজের আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন। দীর্ঘ বছর পর সেই মাটির টানেই কি এবার ভোটাররা তাঁর ওপর ভরসা রাখবেন? শিবপুরের মানুষ কি তাঁদের ঘরের ছেলেকে বিধানসভায় পাঠাবেন, নাকি তৃণমূলের দুর্ভেদ্য দুর্গে ঘাসফুলই ফুটবে? এই প্রশ্নই এখন হাওড়ার অলিতে-গলিতে ঘুরপাক খাচ্ছে।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা হওয়ার পর এখনও পর্যন্ত রুদ্রনীল ঘোষ কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেননি। সংবাদমাধ্যমের তরফে তাঁর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি আপাতত ধরাছোঁয়ার বাইরে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের লড়াই ২০২১-এর চেয়ে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। বিশেষ করে যেখানে টলিউড তারকাদের বিজেপিতে আসা এবং যাওয়ার একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ২০১৯ সালে পার্ণো মিত্র, রূপাঞ্জনা মিত্র থেকে শুরু করে বনি সেনগুপ্ত বা যশের মতো তারকারা গেরুয়া শিবিরে যোগ দিলেও, সময়ের সাথে সাথে সেই জোয়ারে ভাটা এসেছে। শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের মতো অনেকেই দল ত্যাগ করেছেন। এই প্রেক্ষাপটে রুদ্রনীল ঘোষের অবিচল থাকা এবং দলের বিশ্বস্ত সৈনিক হিসেবে পুনরায় টিকিট পাওয়া নিশ্চিতভাবেই তাৎপর্যপূর্ণ।
মঙ্গলবার তৃণমূল কংগ্রেস তাদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করতে পারে। তখনই স্পষ্ট হবে শিবপুরে রুদ্রনীলের বিপক্ষে শাসক দল কোন হেভিওয়েটকে নামায়। শিবপুরের এই লড়াই কি কেবলই সেলেব্রিটি বনাম রাজনীতির হবে, নাকি ঘরের ছেলের আবেগে বাজিমাত করবে বিজেপি—তার উত্তর মিলবে নির্বাচনী ফলাফলে।