“সম্পদ দখল করব নয়তো ধ্বংস!”-যুদ্ধের ময়দান থেকেই হুঙ্কার মোজতবা খামেনির

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ হামলায় আলি খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের মসনদে বসেছেন তাঁর পুত্র মোজতবা খামেনি। দায়িত্ব গ্রহণের ঠিক এক সপ্তাহের মাথায় রবিবার রাতে নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে বিশ্ব রাজনীতিকে কাঁপিয়ে দেওয়ার মতো বার্তা দিলেন তিনি। মোজতবা সাফ জানিয়েছেন, ইরানের ওপর হওয়া হামলার প্রতিটি ফোঁটা রক্তের এবং প্রতিটি সম্পদের ক্ষতিপূরণ কড়ায়-গণ্ডায় উসুল করবে তেহরান।

মোজতবার কড়া বার্তা: তিন দফার হুমকি

নতুন সর্বোচ্চ নেতা তাঁর বার্তায় তিন স্তরের প্রতিশোধের ছক তুলে ধরেছেন: ১. ক্ষতিপূরণ দাবি: শত্রু পক্ষকে (আমেরিকা ও ইজরায়েল) ইরানের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অর্থ হিসেবে দিতে হবে। ২. সম্পদ বাজেয়াপ্ত: যদি তারা রাজি না হয়, তবে ইরান নিজেই নির্ধারণ করবে কোন সম্পদ এবং কতটা পরিমাণ তারা দখল বা বাজেয়াপ্ত করবে। ৩. বিধ্বংসী প্রতিশোধ: সম্পদ নেওয়া সম্ভব না হলে, সমপরিমাণ শত্রু-সম্পদ মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

এক নজরে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি:

  • ২৮ ফেব্রুয়ারি: ইজরায়েল ও মার্কিন হামলায় আলি খামেনি সহ প্রায় ১,৩০০ জন ইরানি প্রাণ হারান।

  • ৮ মার্চ: বিশেষজ্ঞ পরিষদের সিদ্ধান্তে মোজতবা খামেনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন।

  • বর্তমান পালটা হামলা: গত কয়েক দিন ধরে ইরাক, জর্ডান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করছে ইরান।

  • হরমুজ সংকটে বিশ্ব: মার্চের শুরু থেকেই মোজতবা খামেনির নির্দেশে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মত: কেন এই চরমপন্থা?

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, মোজতবা খামেনি তাঁর পিতার তুলনায় অনেক বেশি কট্টরপন্থী এবং সামরিক ঘনিষ্ঠ। তাঁর এই ‘ক্ষতিপূরণ’ বা ‘সম্পদ ধ্বংসের’ ডাক সরাসরি মার্কিন বাণিজ্যিক জাহাজ এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইজরায়েলি পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে হতে পারে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখা তাঁর সবথেকে বড় তুরুপের তাস, যা দিয়ে তিনি পশ্চিমা দেশগুলোকে আলোচনার টেবিলে বাধ্য করতে চাইছেন।