‘এটা নারীবিদ্বেষী ও বাঙালি বিদ্বেষী মানসিকতা!’ মুখ্যসচিব-পুলিশ কমিশনার বদল নিয়ে কমিশনকে ধিক্কার মমতার

ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই বাংলার রাজপথে শক্তিপ্রদর্শন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সোমবার বিকেলে রান্নার গ্যাসের আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি এবং কৃত্তিম সংকটের প্রতিবাদে কলেজ স্কোয়ার থেকে ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত এক বিশাল মিছিলে নেতৃত্ব দেন তিনি। তবে সভার মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক রদবদল এবং বিজেপির বিরুদ্ধে মমতার একের পর এক বিস্ফোরক আক্রমণ।
কমিশনকে ‘বাঙালি বিদ্বেষী’ তোপ: রবিবার মধ্যরাতে মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকারকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ করেন মমতা। তিনি বলেন, “মধ্যরাতে নন্দিনী চক্রবর্তীকে বদলেছেন, এটা ঘোরতর বাঙালি বিদ্বেষী ও নারীবিদ্বেষী মানসিকতা। কেন পুলিশ কমিশনারকে সরালেন? টাকা ঢোকাবেন বলে? না কি হামলা করাবেন বলে?” মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, যে অফিসারকেই পাঠানো হোক, তাঁরা শেষ পর্যন্ত মানুষের স্বার্থেই কাজ করবেন।
বিজেপিকে কড়া চ্যালেঞ্জ: এদিন মিছিলে তাঁর সঙ্গে পা মেলান চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, সায়নী ঘোষ ও বিরবাহা হাঁসদার মতো হেভিওয়েট নেত্রীরা। ডোরিনা ক্রসিং-এর মঞ্চ থেকে মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়িতে হামলার প্রসঙ্গ টেনে বিজেপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে মমতা বলেন, “বুকের পাটা থাকলে কালীঘাটে হামলা করে দেখাক, লড়ে নেব।” ভোটের আবহে কেন্দ্রীয় এজেন্সির অতি-সক্রিয়তা এবং প্রশাসনের রদবদলের মাঝে মমতার এই প্রতিবাদী মিছিল আদতে তৃণমূলের ঘর গোছানোর বড় বার্তা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।