বীরভূমে মৃত্যুমিছিল! তৃণমূল নেতার ‘অবৈধ’ খাদানে ভয়াবহ ধস, পিষে মরে গেলেন ৩ শ্রমিক; পলাতক মালিক?

৬ মাসের ব্যবধানে বীরভূমে ফের ফিরল সেই অভিশপ্ত স্মৃতি। গত বছর নলহাটির পর এবার মুরারই থানার গোপালপুর। সোমবার দুপুরে একটি অবৈধ পাথর খাদানে ভয়াবহ ধস নেমে প্রাণ হারালেন ৩ জন শ্রমিক। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরও বেশ কয়েকজন রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই অবৈধ খাদানের মালিক বীরভূম জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ তথা দাপুটে তৃণমূল নেতা সিরাজুল ইসলাম।

কীভাবে ঘটল এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা? স্থানীয় সূত্রে খবর, সোমবার বেলা ১২টা নাগাদ ওই খাদানে ব্লাস্টিং করার জন্য ড্রিলিং মেশিন দিয়ে পাথর ফুটো করা হচ্ছিল। গত রবিবারের বৃষ্টিতে মাটি নরম থাকায় আচমকাই ওপর থেকে বিশাল পাথরের চাঁই ও মাটি ধসে পড়ে। সেই সময় ১২ থেকে ১৪ জন শ্রমিক সেখানে কাজ করছিলেন। মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন সকলে। স্থানীয়রা উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়লেও ঘটনাস্থলেই ৩ জনের মৃত্যু হয়। বৃষ্টির কারণে শ্রমিকরা যেখানে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন, সেই খড়ের চালার ওপরেই ধস নামে বলে দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের।

রাজনৈতিক মহলে তোলপাড়: ঘটনা জানাজানি হতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপি নেতা ধ্রুব সাহার সরাসরি অভিযোগ, “তৃণমূল নেতা সিরাজুল ইসলাম ও আলি খান প্রশাসনের মদতেই এই অবৈধ কারবার চালাচ্ছেন।” বারবার বীরভূমের অবৈধ খাদানে শ্রমিকের মৃত্যু হলেও কেন টনক নড়ছে না নবান্নের? সেই প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। পুলিশ মৃতদেহগুলি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে এবং গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তবে ঘটনার পর থেকেই এলাকা ছেড়েছেন খাদান কর্তৃপক্ষ।