দাদুর পাশেই নিথর তিন নাতি-নাতনি! বাইকের বিষাক্ত ধোঁয়ায় একই পরিবারের ৪ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

অন্ধ্রপ্রদেশের চিত্তোর জেলায় ঘটে গেল এক অকল্পনীয় ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। মেকানিকের দেওয়া এক ভুল পরামর্শ কেড়ে নিল একই পরিবারের চারটি প্রাণ। সোমবার পুলিশ জানিয়েছে, বাইকের সাইলেন্সর থেকে নির্গত বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে ঘুমের মধ্যেই মৃত্যু হয়েছে ৭০ বছর বয়সি এক বৃদ্ধ এবং তাঁর তিন নাতি-নাতনির। মৃতদের মধ্যে রয়েছে আট বছরের যমজ দুই বোন এবং তাদের ১৫ বছর বয়সি দাদা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, স্থানীয় এক সেলুন মালিক মুরালি সম্প্রতি তাঁর মোটরবাইকটি মেরামত করিয়েছিলেন। মেকানিক তাঁকে পরামর্শ দেন, ইঞ্জিনের কন্ডিশন ঠিক রাখতে সারারাত যেন বাইকটি চালু রাখা হয়। সেইমতো মুরালি বাড়ির একপাশে বাইকটি রেখে ইঞ্জিন চালু করে দেন। ঠিক তার পাশের ঘরেই জানলা-দরজা বন্ধ করে ঘুমাচ্ছিলেন মুরালির বৃদ্ধ বাবা এবং তাঁর তিন সন্তান। মুরালি ও তাঁর স্ত্রী সে রাতে বাড়ির ছাদে শুতে গিয়েছিলেন।
বন্ধ ঘরে সারারাত বাইক চলার ফলে প্রচুর পরিমাণে বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস জমা হয়। ভোরের দিকে সেই গ্যাস পাশের ঘরে ছড়িয়ে পড়তেই ঘুমের মধ্যেই বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হন চারজন। পরদিন সকালে দীর্ঘক্ষণ সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজা ভেঙে ঢুকেই চমকে ওঠেন পরিবারের সদস্যরা। দেখা যায়, বিছানাতেই নিথর হয়ে পড়ে রয়েছেন চারজন। পুলিশ দেহগুলি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।
এই ঘটনা মনে করিয়ে দিচ্ছে গত বছরের উত্তরপ্রদেশের হাপুরের সেই মর্মান্তিক স্মৃতি। যেখানে হোলি খেলার পর স্নানঘরে গিজারের গ্যাস লিক করে মৃত্যু হয়েছিল এক দম্পতির। বদ্ধ ঘরে আগুনের ধোঁয়া বা গ্যাসের লিকেজ যে কতটা ভয়ংকর ‘সাইলেন্ট কিলার’ হতে পারে, এই ঘটনা আবারও তা প্রমাণ করল।