‘মরার সময় হরিনাম!’ মমতার ডিএ বৃদ্ধি নিয়ে এ কী বললেন দিলীপ ঘোষ? তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!

রাজ্যে লোকসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই রাজনীতির ময়দান তপ্ত। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য অতিরিক্ত ৪ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা (DA) ঘোষণা করেছেন এবং প্রশাসনের অন্দরে বড়সড় রদবদল ঘটিয়েছেন, ঠিক তখনই পাল্টা আক্রমণে নামলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। মেদিনীপুরের প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে চেনা মেজাজে তিনি রাজ্য সরকারকে বিঁধলেন তীব্র শ্লেষ আর তীক্ষ্ণ বাকবাণে।
দিলীপ ঘোষের দাবি, এই ডিএ বৃদ্ধি কিংবা সচিব স্তরে রদবদল—সবই আসলে ডুবন্ত নৌকা বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা। তিনি বলেন, “সারা বছর কর্মচারীদের বঞ্চনা করে এখন ভোটের মুখে দয়া দেখানো হচ্ছে। একেই বলে মরার সময় হরিনাম!” তাঁর মতে, বকেয়া ডিএ-র পাহাড় জমিয়ে রেখে এই নামমাত্র ৪ শতাংশ বৃদ্ধি রাজ্য সরকারি কর্মীদের সঙ্গে এক ধরণের রসিকতা। কর্মচারীরা এই ‘ললিপপ’ ভুলে যাবেন না এবং ব্যালট বক্সেই এর জবাব দেবেন।
প্রশাসনিক স্তরে সচিব বদল নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দিলীপবাবু আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন কড়া হতেই রাজ্য সরকার তড়িঘড়ি নিজেদের পছন্দের অফিসারদের সরিয়ে ‘নিরপেক্ষ’ সাজার নাটক করছে। কিন্তু আদতে তৃণমূলের পায়ের তলার মাটি সরে গিয়েছে। তাঁর কথায়, “ওরা যত খুশি অফিসার বদলাক বা তাসের ঘরের মতো পরিকল্পনা সাজাক, সাধারণ মানুষের ক্ষোভের ‘গ্যাস’ এবার ভোটেই বেরোবে। মানুষ তৈরি হয়ে আছে তৃণমূলকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য।”
বিজেপি নেতার এই বিস্ফোরক বয়ান ঘিরে ইতিমধ্যেই তৃণমূলের অন্দরে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। শাসক শিবিরের দাবি, দিলীপ ঘোষ প্রচারের আলোয় থাকতে এসব ভিত্তিহীন কথা বলছেন। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, ডিএ ইস্যু এবং প্রশাসনিক রদবদলকে হাতিয়ার করে দিলীপবাবু যে মেজাজে আক্রমণ শানিয়েছেন, তাতে ভোটের আগে চাপ বাড়ল শাসক দলের ওপর। এখন দেখার, এই ‘গ্যাস’ বেরোনোর তত্ত্ব আসন্ন নির্বাচনে কতটা সত্যি প্রমাণিত হয়।