পেনশনারদের পোয়াবারো, কর্মীদের কি অপেক্ষা? বকেয়া ডিএ নিয়ে অর্থ দপ্তরের নয়া নির্দেশিকা ঘিরে উত্তেজনা

রাজ্য সরকারি কর্মচারী ও পেনশনারদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) মেটানোর প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। তবে টাকা পাওয়ার আনন্দ ছাপিয়ে এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে— এই অর্থ কি সরাসরি হাতে আসবে, না কি জমা হবে জিপিএফ (GPF) অ্যাকাউন্টে? ২০২৬ সালের মার্চ মাস থেকেই রোপা ২০০৯ অনুযায়ী এই বকেয়া মেটানোর কাজ শুরু হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। তবে অর্থ প্রদানের সঠিক পদ্ধতিটি এখনও দোদুল্যমান।

পেনশনার এবং ফ্যামিলি পেনশনারদের জন্য সুখবর হলো, তাঁদের ক্ষেত্রে কোনও জটিলতা নেই। যেহেতু অবসরপ্রাপ্তদের জিপিএফ অ্যাকাউন্ট সক্রিয় থাকে না, তাই তাঁদের বকেয়া ডিএ-র টাকা সরাসরি সেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হবে যেখানে প্রতি মাসে পেনশন ঢোকে। কিন্তু কর্মরত কর্মীদের ক্ষেত্রে চিত্রটা ভিন্ন হতে পারে। নবান্নের অন্দরে দুটি সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে— সরাসরি স্যালারি অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো অথবা অতীতে স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনালের (SAT) দেওয়া প্রস্তাব অনুযায়ী টাকাটি জিপিএফ অ্যাকাউন্টে জমা করে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য লক করে রাখা।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, ৩১ মার্চের মধ্যে বকেয়ার প্রথম ২৫ শতাংশ কিস্তি মেটাতে হবে। বিপুল সংখ্যক কর্মীর নিখুঁত হিসাব কষতে সময় লাগতে পারে বলে মনে করছে সরকার। তাই প্রাথমিক পর্যায়ে একটি ‘লাম্পসাম’ বা থোক টাকা অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে পরে তা সমন্বয়ের পরিকল্পনাও রয়েছে প্রশাসনের। অর্থ দপ্তরের চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তির দিকেই এখন চেয়ে রয়েছেন রাজ্যের লক্ষ লক্ষ কর্মী। ৩১ মার্চের ডেডলাইন মাথায় রেখে নবান্ন যে শীঘ্রই নির্দেশিকা জারি করবে, তা প্রায় নিশ্চিত।