তৃণমূল ছাড়ছেন ভাঙড়ের ‘তাজা নেতা’! আরাবুলের দলত্যাগের ঘোষণায় তোলপাড় বঙ্গ রাজনীতি

ভাঙড়ের দাপুটে নেতা, একসময়ের ‘তাজা ছেলে’ হিসেবে পরিচিত আরাবুল ইসলাম এবার তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলেন। সোমবার সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে তিনি জানিয়ে দিলেন, তৃণমূলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের পথচলা এবার শেষ হতে চলেছে। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “আরাবুল ইসলামকে দল বুঝল না। পাঁচ বার কেস খেয়েছি, তিনবার বহিষ্কার হয়েছি। সেই কারণেই মনের দুঃখে আজ তৃণমূল থেকে ইস্তফা দিচ্ছি।” যদিও মৌখিকভাবে ইস্তফার ঘোষণা করলেও, আধিকারিক স্তরে এখনও পদত্যাগপত্র জমা পড়ার খবর মেলেনি।

অভিমান নাকি রাজনৈতিক সমীকরণ?
ভোটের আবহে তৃণমূলের অন্দরে ‘অভিমানী’ নেতার তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। আরাবুলের ক্ষেত্রে এই দূরত্ব নতুন নয়। গত কয়েক বছর ধরে দফায় দফায় সাসপেনশন এবং বহিষ্কারের জেরে দলের মূল স্রোত থেকে অনেকটাই দূরে চলে গিয়েছিলেন তিনি। এককালে ভাঙড়ের বেতাজ বাদশা হিসেবে পরিচিত আরাবুলের জায়গায় এখন শওকত মোল্লাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে দল। আইএসএফ-কে রুখতে তৃণমূল হাইকম্যান্ড শওকতের ওপর ভরসা রাখায় কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েন আরাবুল।

দ্বন্দ্বের নেপথ্যে শওকত ফ্যাক্টর:
সূত্রের খবর, দলের অন্দরে গুরুত্ব হারানোর পাশাপাশি শওকত মোল্লার সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সংঘাতই এই চরম সিদ্ধান্তের মূল কারণ। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে জেতার পর থেকেই ভাঙড়ের পর্যবেক্ষক শওকতের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সরব হয়েছিলেন আরাবুল। এমনকি তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা দিবসে দুই গোষ্ঠীর লড়াই চরমে পৌঁছায়। এরপর থেকেই দলে ব্রাত্য হয়ে পড়েন তিনি।

পরবর্তী গন্তব্য কোথায়?
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, ইস্তফা দিয়ে আরাবুল যাবেন কোথায়? রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন, সোমবারই ফুরফুরা শরিফ যাচ্ছেন তিনি। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামীকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার নওশাদ সিদ্দিকীর দল আইএসএফ-এ (ISF) যোগ দিতে পারেন এই প্রাক্তন বিধায়ক। যদিও সরাসরি কিছু না বলে আরাবুল রহস্য জিইয়ে রেখেছেন। তিনি বলেন, “পরিস্থিতি আসুক সব বলব। তবে দু-একদিনের মধ্যেই বড় কিছু ঘটবে।”

অন্যদিকে, ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী জানিয়েছেন, “তৃণমূল আরাবুলকে ব্যবহার করে এখন ফেলে দিয়েছে। যেমনটা ওরা শাহজাহানের সাথে করছে। উনি আমাদের জেলা স্তরের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং আইএসএফ-এ যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।”