‘শওকত মোল্লাকে টিকিট দিলে মানুষ বিসর্জন দেবে!’ ভোট ঘোষণা হতেই তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে বিষ্ফোরক ত্বহা সিদ্দিকী

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ হতেই তপ্ত হয়ে উঠল দক্ষিণবঙ্গের রাজনীতি। ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার বিরুদ্ধে এবার সরাসরি যুদ্ধের ডাক দিলেন ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকী। রবিবার শওকতকে তীক্ষ্ণ ভাষায় আক্রমণ করে তিনি বলেন, “তৃণমূল যদি শওকত মোল্লার মতো মানুষকে প্রার্থী করে, তবে মানুষ তাকে বিসর্জন দেবে। এই ধরনের নেতারা দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করে।”
ত্বহা সিদ্দিকীর নিশানায় শুধু শওকত নন, ছিলেন শাসকদলের আরও বেশ কিছু বিধায়ক। তাঁর দাবি, গত কয়েক বছরে অনেক বিধায়ক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আড়াল করে সাধারণ মানুষ ও সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার চালিয়েছেন, মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল খাটিয়েছেন। পীরজাদার সাফ কথা, “সৎ মানুষকে প্রার্থী করলে মানুষ দু’হাত ভরে তৃণমূলকে ভোট দেবে, কিন্তু শওকতদের মতো অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে ভোট যাবে।” এমনকি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইমাম ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা নিয়েও খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, এই ঘোষণা আরও আগে হওয়া উচিত ছিল, নয়তো মানুষ একে ‘ভোটের তরী পার হওয়ার কৌশল’ হিসেবেই দেখবে।
নির্বাচন কমিশনকেও রেয়াত করেননি পীরজাদা। রাজ্য সরকারের সঙ্গে কমিশনের সংঘাত এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার ইস্যুতে তিনি সরব হন। তবে সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর বিশেষ আবেদন, রাজনৈতিক নেতাদের উস্কানিতে যেন কেউ পা না দেন। হিন্দু-মুসলিম ঐক্য বজায় রাখার বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “আমি চাই না কোনও মায়ের কোল খালি হোক।” নির্বাচনের মুখে ত্বহা সিদ্দিকীর এই ‘বিদ্রোহ’ তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি বাড়াবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।