“দাউদাউ করে জ্বলছে ট্যাঙ্ক”-দুবাই এয়ারপোর্টের কাছেই ড্রোন হামলা

দুবাই: সপ্তাহের শুরুতেই ভয়াবহ নাশকতার সাক্ষী থাকল বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। সোমবার ভোরে একটি সন্দেহভাজন ড্রোন হামলার জেরে বিমানবন্দরের সংলগ্ন একটি তেলের ট্যাঙ্কারে বিধ্বংসী আগুন লেগে যায়। এই ঘটনায় প্রাণহানির খবর না মিললেও নিরাপত্তার খাতিরে দুবাই সিভিল এভিয়েশন অথরিটি সাময়িকভাবে সমস্ত উড়ান পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে।

জ্বালানি ট্যাঙ্কে ড্রোন আঘাত: দাউদাউ আগুন

দুবাইয়ের অফিশিয়াল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে জানানো হয়েছে, ভোরে একটি জ্বালানি ট্যাঙ্কে ড্রোন আছড়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বেশ কিছু ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, বিমানবন্দরের কাছে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উঠছে। যদিও ঘটনার কিছু সময়ের মধ্যেই দুবাই সিভিল ডিফেন্স ফোর্সের তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

স্থগিত উড়ান, দুর্ভোগে যাত্রীরা

নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বিমানবন্দরের সমস্ত উড়ান স্থগিত করা হয়েছে।

  • ডাইভারশন: বহু আন্তর্জাতিক বিমানকে দুবাইয়ের প্রধান বিমানবন্দর থেকে সরিয়ে ‘আল মাকতুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে’ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

  • বাতিল ভারতগামী উড়ান: এয়ার ইন্ডিয়া এবং এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস দুবাইগামী তাদের সমস্ত উড়ান এদিনের মতো বাতিল ঘোষণা করেছে। এছাড়া এমিরেটস-এর একটি বিমান তিরুবনন্তপুরম থেকে দুবাই যাওয়ার পথে মাঝ আকাশ থেকেই ফিরে আসতে বাধ্য হয়।

রাস্তা ও টানেল বন্ধ

দুবাই পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারকাজ ও নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানবন্দর সংলগ্ন সমস্ত রাস্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ টানেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের বিমানবন্দরে আসার আগে নিজ নিজ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নেপথ্যে কি ইরান-ইজরায়েল সংঘাত?

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই হামলাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গত কয়েকদিনে দুবাইয়ের ডাউনটাউন এবং বুর্জ খালিফার কাছে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। এই ড্রোন হামলাটি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান ও মার্কিন-ইজরায়েল সংঘাতেরই অংশ কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়েছে।