গরম বাড়লেই ঘুম উধাও? গরমে কেন কমে যায় ঘুমের আয়ু, জানুন বিজ্ঞানসম্মত কারণ ও বাঁচার উপায়

ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে আমাদের শরীরের অভ্যন্তরীণ জৈবিক ঘড়িতেও পরিবর্তন আসে। লক্ষ্য করা গিয়েছে, শীতকালের তুলনায় গ্রীষ্মকালে মানুষের ঘুমের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এটি কেবল বিরক্তির কারণ নয়, বরং সরাসরি আমাদের দৈনন্দিন কর্মক্ষমতা ও স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রীষ্মের দীর্ঘ দিন এবং ছোট রাত আমাদের শরীরের ‘মেলাটোনিন’ নামক ঘুম উদ্রেককারী হরমোনের উৎপাদনে বাধা দেয়। যেহেতু অন্ধকার নামলে এই হরমোন সক্রিয় হয়, তাই গরমে দেরিতে অন্ধকার হওয়ায় আমাদের ঘুম আসতে দেরি হয়।
সুস্বাস্থ্যের জন্য একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম অপরিহার্য। ঘুমের এই ঘাটতি মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটায়, যা পরবর্তীকালে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি করে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া সারাদিন ক্লান্তি, মানসিক চাপ এবং খিটখিটে মেজাজ তো আছেই। বর্তমানের আধুনিক জীবনধারা, যেমন গভীর রাত পর্যন্ত মোবাইলের ব্যবহার বা অফিসের কাজ, এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলছে।
শান্তির ঘুমের জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:
গবেষণায় দেখা গেছে, আমাদের শরীর সূর্যের গতির সাথে তাল মিলিয়ে চলে যাকে ‘সার্কাডিয়ান রিদম’ বলা হয়। গরমে ভালো ঘুমের জন্য শোবার ঘরটি শীতল, শান্ত ও অন্ধকার রাখা জরুরি। ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল ফোন দূরে রাখুন এবং চা-কফি এড়িয়ে চলুন। রাতে হালকা সুতির পোশাক পরা এবং ঘুমানোর আগে স্নান করে নেওয়া শরীরকে শিথিল করতে সাহায্য করে। এছাড়া প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করলে জৈবিক ঘড়িটি পুনরায় সঠিক ছন্দে ফিরে আসে। মনে রাখবেন, পর্যাপ্ত ঘুম কেবল বিশ্রাম নয়, এটি আপনার দীর্ঘায়ুর চাবিকাঠি।