বাম ভোট কি তবে রামেই? শিলিগুড়ি থেকে প্রবীণ নেতার ‘দুঃখপ্রকাশ’ ঘিরে বঙ্গে নতুন রাজনৈতিক মহাপ্রলয়

“তৃণমূলকে হারানোর জন্য বামপন্থীরা বিজেপিকে ভোট দিয়েছে”— বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক মুখে দাঁড়িয়ে সিপিএমের প্রবীণ নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্যের এই একটি মন্তব্যেই কার্যত উত্তাল হয়ে উঠল রাজ্য রাজনীতি। শিলিগুড়ির এক সমাবেশ থেকে অশোকবাবু যে সত্যটি প্রকাশ্যে এনেছেন, তা দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল দাবি করে আসছিল। এই স্বীকারোক্তি কি তবে আসন্ন নির্বাচনে বাম-বিজেপি আঁতাঁতেরই প্রমাণ? তুঙ্গে উঠেছে জল্পনা।
কী বললেন অশোক ভট্টাচার্য? শিলিগুড়ির সভা থেকে কর্মীদের চাঙ্গা করতে গিয়ে কিছুটা আবেগী হয়ে পড়েন অশোক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “খুব দুঃখের সঙ্গে বলছি, বিগত তিনটি নির্বাচনে তৃণমূলকে হারানোর জন্য বামপন্থীরা বিজেপিকে ভোট দিয়েছে। এবার এই ভুল আর করবেন না।” তাঁর মতে, বঙ্গে নতুন সূর্যের উদয় হবেই, তবে তার জন্য বামপন্থীদের বাম পথেই একজোট হয়ে লড়াই করতে হবে। অশোকবাবুর এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে তৃণমূলের কটাক্ষ— “কার সঙ্গে কার আসল সেটিং, সেটা আজ দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে গেল।”
ব্রিগেডে মোদীর পাশে বামপন্থী ডাক্তার: অশোক ভট্টাচার্যের মন্তব্যের আগুনেই যেন ঘি ঢালল শনিবারের ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের দৃশ্য। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মঞ্চে সশরীরে দেখা গেল প্রখ্যাত চিকিৎসক নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে, যিনি নিজেকে আজীবন ‘বামপন্থী’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে এসেছেন। ব্রিগেডে উপস্থিত হয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এখন ডান-বাম বিচার করার সময় নয়। বাংলার বর্তমান পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে ‘নো ভোট টু টিএমসি’ শ্লোগানকে সফল করতে হবে। জল্পনা শুরু হয়েছে যে, বিজেপি এবার তাঁকে প্রার্থীও করতে পারে।
রাজনৈতিক মেরুকরণ: নারায়ণবাবুর মতো বামপন্থীদের বিজেপি মুখী হওয়ার ঘটনা এবং অশোক ভট্টাচার্যের স্বীকারোক্তি— দুইয়ে মিলে বাংলার নির্বাচনে এক অভূতপূর্ব মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বামপন্থীদের একাংশ এখন তৃণমূলকে সরাতে বিজেপিকেই সেরা বিকল্প মনে করছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক এখন চায়ের আড্ডায় তুঙ্গে। অন্যদিকে, বিজেপি শিবির এই ‘পরিবর্তন কামী’ মানুষদের দলে স্বাগত জানাতে কোমর বেঁধে নেমেছে।