বালিশে মাথা দিলেই অফিসের চিন্তা? নিজের অজান্তেই বড় বিপদ ডেকে আনছেন না তো!

শরীর ও মনকে তরতাজা রাখতে সুষম আহারের মতোই জরুরি গভীর ঘুম। কিন্তু বর্তমানের ইঁদুর দৌড়ের জীবনে আমরা অনেকেই বিছানায় শুয়েও শান্তিতে ঘুমোতে পারি না। চিকিৎসকদের মতে, আমাদের কিছু সাধারণ ভুল অভ্যাসের কারণেই ঘুমের স্বাভাবিক চক্র বা ‘স্লিপ সাইকেল’ তছনছ হয়ে যাচ্ছে। আপনিও কি ঘুমোতে যাওয়ার আগে অফিসের কাজ বা দুশ্চিন্তা নিয়ে ভাবেন? তবে সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে।
কেন ব্যাহত হচ্ছে আপনার ঘুম? ১. ডিজিটাল আসক্তি: ঘুমোতে যাওয়ার ঠিক আগে মোবাইল স্ক্রল করা আমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু। স্মার্টফোনের নীল আলো (Blue Light) মস্তিস্কে ‘মেলাটোনিন’ নামক হরমোন তৈরিতে বাধা দেয়, যা ঘুমের জন্য অত্যন্ত জরুরি। ২. অফিসের চিন্তা ও মানসিক চাপ: বিছানায় গিয়েও কাজের ইমেল দেখা বা ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করার অর্থ হলো মস্তিস্ককে ‘অ্যালার্ট’ রাখা। এতে স্নায়ুতন্ত্র শিথিল হওয়ার সুযোগ পায় না, ফলে ঘুম আসলেও তা গভীর হয় না। ৩. ভুল সময়ে খাবার: ঘুমানোর অন্তত ২-৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার সারা উচিত। শোওয়ার ঠিক আগে ভারী বা মশলাদার খাবার খেলে অ্যাসিডিটি ও বদহজমের সমস্যা তৈরি হয়, যা রাতের আরাম কেড়ে নেয়। ৪. ক্যাফেইনের নেশা: রাতে এক কাপ চা বা কফি আপনাকে চাঙ্গা করতে পারে, কিন্তু এটি ঘুমের ঘোর কাটিয়ে দেয়। ক্যাফেইনের প্রভাব শরীরে প্রায় ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত থাকে, যা অনিদ্রার অন্যতম কারণ। ৫. অনিয়মিত সময়সূচি: প্রতিদিন আলাদা আলাদা সময়ে ঘুমোতে যাওয়া শরীরের অভ্যন্তরীণ ছন্দ বা ‘সার্কাডিয়ান রিদম’ নষ্ট করে দেয়।
সুস্থ থাকতে যা করবেন: চিকিৎসকদের পরামর্শ, শোওয়ার অন্তত এক ঘণ্টা আগে থেকে ফোন বা ল্যাপটপ দূরে সরিয়ে রাখুন। বই পড়া বা হালকা গান শোনার অভ্যাস মস্তিস্ককে শান্ত করতে সাহায্য করে। মনে রাখবেন, আজকের ভালো ঘুমই কিন্তু কালকের কাজের শক্তি।