গিরিশ পার্কে তুলকালাম: মোদির সভার আগে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার ৪! এবার চরম অ্যাকশনে লালবাজার

শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাইভোল্টেজ ব্রিগেডের সভার ঠিক আধঘণ্টা আগে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল উত্তর কলকাতার গিরিশ পার্ক। তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে সেই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় এবার বড় পদক্ষেপ নিল লালবাজার। রাতভর তল্লাশি চালিয়ে এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে ৪ জন পুলিশকর্মীও আহত হয়েছেন বলে খবর।

লালবাজারের স্বতঃপ্রণোদিত মামলা পুলিশ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত কোনও রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে কলকাতা পুলিশ নিজেই গিরিশ পার্ক থানায় একটি স্বতঃপ্রণোদিত (Suo Motu) মামলা রুজু করেছে। ডিসি (সেন্ট্রাল) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক কঠোর ধারা ছাড়াও ‘সরকারি সম্পত্তি ক্ষতি নিবারণ আইন’ এবং ‘পশ্চিমবঙ্গ জনশৃঙ্খলা রক্ষা আইন’-এর অধীনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ঘটনার নেপথ্যে কী? জানা গিয়েছে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি-বিরোধী কিছু ফ্লেক্স ছেঁড়াকে কেন্দ্র করেই বিবাদের সূত্রপাত। মোদির সভায় যাওয়ার পথে বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে তৃণমূল সমর্থকদের বচসা থেকে পাথর বৃষ্টি শুরু হয়। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপির দুষ্কৃতীরা প্রবীণ ক্যাবিনেট মন্ত্রী শশী পাঁজার বাসভবন লক্ষ্য করে পাথর ছুড়েছে, যাতে মন্ত্রী নিজেও আহত হয়েছেন। পাল্টা বিজেপির দাবি, তাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে তৃণমূলের কর্মীরাই প্রথম হামলা চালায়।

সিসিটিভি ফুটেজে নজর বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও গিরিশ পার্ক এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে সংঘর্ষে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, গ্রেফতারের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। আসন্ন নির্বাচনের আগে এই ঘটনা কলকাতার রাজনৈতিক উত্তাপকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।