‘জানি না এটাই শেষ মেসেজ কি না!’, ইরানের বন্দরে বন্দি ১০০০ ভারতীয় নাবিকের হাহাকার!

দাউদাউ করে জ্বলছে ইরান। মাথার ওপর অনবরত ক্ষেপণাস্ত্র আর ড্রোন বিস্ফোরণের গগনভেদী শব্দ। এমন এক মৃত্যুপুরীর মাঝখানে দাঁড়িয়ে ইরানের বিভিন্ন বন্দরে আটকে পড়েছেন ভারতের প্রায় ১০০০ জন নাবিক। তাঁদের কাছে থাকা খাবার আর পানীয় জল প্রায় শেষের পথে। সাহায্যের আশায় জাহাজের জানলা দিয়ে বাইরের ধ্বংসলীলা রেকর্ড করে ভিডিও ও মেসেজ পাঠাচ্ছেন তাঁরা। ‘ফরওয়ার্ড সিমেন ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া’ (FSUI)-এর কাছে আসা এই ভিডিওগুলোতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে আতঙ্কিত ভারতীয় মুখগুলো, যাদের একটাই আর্তনাদ— “আমাদের বাঁচান!”

এফএসইউআই-এর সাধারণ সম্পাদক মনোজ যাদব জানিয়েছেন, ইরানের বান্দার আব্বাস পোর্টে ২০ জন ভারতীয় এক চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। মহারাষ্ট্রের লাতুরের বাসিন্দা অভিজিৎ গুন্দ্রে ইঞ্জিনিয়র হিসেবে সেখানে কর্মরত ছিলেন। তিনি জানান, সংস্থাকে বারবার দেশে ফেরানোর অনুরোধ করলেও কোনো সাড়া মেলেনি। প্রাণ বাঁচাতে ৭ জন ভারতীয় এখন একটি ছোট স্পিডবোটে আত্মগোপন করে আছেন। অরবিন্দ শুক্লা নামে এক নাবিক মনোজকে মেসেজ করেছেন, “স্যার, জানি না এটাই আমার শেষ মেসেজ হবে কি না। দয়া করে আমাদের রক্ষা করুন।”

এদিকে ভারতীয়দের উদ্ধারে সক্রিয় হয়েছে মোদী সরকার। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানিয়েছেন, আকাশপথ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ইরান থেকে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া সীমান্ত হয়ে স্থলপথে ভারতীয়দের ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেখানে ভিসা ও যাতায়াতের জন্য বিশেষ সহযোগিতা করা হচ্ছে। ইরানে থাকা প্রায় ৯ হাজার ভারতীয়র মধ্যে ইতিমধ্যেই বহু পড়ুয়া দেশে ফিরেছেন। তবে বন্দরে আটকে থাকা এই ১০০০ জন নাবিকের বর্তমান পরিস্থিতি ভারতের জন্য এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।