বালি মাফিয়াদের স্বর্গরাজ্য বীরভূম! বেআইনি খাদান বন্ধে জেলাশাসককে চরম হুঁশিয়ারি গেরুয়া শিবিরের

ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার ঠিক আগেই বীরভূমের রাজনীতিতে তপ্ত হয়ে উঠল ‘বালি’ ইস্যু। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘বেআইনি’ বালিঘাট চালিয়ে নির্বাচনী তহবিলের টাকা জোগাড়ের গুরুতর অভিযোগ তুলল বিজেপি। শুক্রবার বীরভূম জেলার সমস্ত অবৈধ বালির খাদান বন্ধ এবং বালির ন্যায্যমূল্য নির্ধারণের দাবিতে জেলাশাসক ধবল জৈনকে কড়া চিঠি দিলেন বিজেপির জেলা সাংগঠনিক সভাপতি উদয় শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।
অভিযোগের তির তৃণমূলের দিকে: বিজেপির দাবি, বীরভূমের ইলামবাজার, নানুর, লাভপুর, সিউড়ি থেকে শুরু করে রামপুরহাট— সর্বত্রই রমরমিয়ে চলছে অবৈধ বালির কারবার। উদয় শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, “ভোটের মুখে তৃণমূলের নির্বাচনী খরচের বড় অংশ জোগান দেয় এই বেআইনি বালিঘাটগুলি। মাফিয়ারা অবৈধভাবে নদী থেকে বালি তুলে তৃণমূল নেতাদের পকেট ভরাচ্ছে।” তাঁর দাবি, পশ্চিম বর্ধমানের মতো বীরভূমেও বালি মাফিয়া ও তাঁদের কর্মীদের বাড়িতে সিবিআই এবং ইডি হানা দিক। তদন্ত হলেই প্রভাবশালী যোগ এবং কালো টাকার হদিস মিলবে বলে দাবি গেরুয়া শিবিরের।
নদী বক্ষে লুটের রাজত্ব: বীরভূমের অজয়, ময়ূরাক্ষী, কোপাই, দ্বারকা এবং বক্রেশ্বরের মতো নদনদীগুলি থেকে দেদার বালি তোলা হচ্ছে। অভিযোগ, প্রশাসনিক নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নদী বক্ষে জেসিবি মেশিন ও যন্ত্রচালিত নৌকা নামিয়ে অবৈজ্ঞানিকভাবে বালি উত্তোলন চলছে। অনেক সময় বৈধ ঘাটের আড়ালে তার পাশেই অবৈধভাবে বালি তোলা হয়, যার রাজস্ব সরকারি কোষাগারে জমা পড়ে না। এই বালিঘাটের দখল নিয়ে বীরভূমে বোমাবাজি ও রক্তক্ষরণের ইতিহাসও নতুন নয়।
সাধারণ মানুষের ভোগান্তি: বিজেপির আরও অভিযোগ, বীরভূমের বালি বাইরে পাচার হয়ে যাওয়ার ফলে জেলার মানুষকে দুই থেকে তিনগুণ বেশি দামে বালি কিনতে হচ্ছে। বালি পাচার রুখলে সাধারণ মানুষ সস্তায় বালি পাবেন। এদিকে জেলাশাসক ধবল জৈন জানিয়েছেন, জেলায় কোনও অন্যায় কাজকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না এবং প্রশাসন সর্বদা সজাগ রয়েছে। তবে বিজেপির হুঁশিয়ারি, দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তাঁরা বড় আন্দোলনে নামবেন।