বিদেশের মাটিতে কাঁপন ধরাবে ভারতীয় অস্ত্র! আর্মেনিয়ায় পৌঁছল ‘পিনাকা’ রকেটের প্রথম ব্যাচ

বিশ্বের প্রতিরক্ষা বাজারে ভারত এখন আর কেবল আমদানিকারক নয়, বরং শক্তিশালী রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে নিজের জায়গা পাকা করে নিচ্ছে। এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে, সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘গাইডেড পিনাকা’ রকেট সিস্টেমের প্রথম ব্যাচ বন্ধুরাষ্ট্র আর্মেনিয়ায় পাঠাল ভারত। শুক্রবার নাগপুরের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ‘যন্ত্র ইন্ডিয়া লিমিটেড’-এর উৎপাদন কেন্দ্র থেকে এই চালানের প্রথম ধাপটি বিদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মতে, এটি ভারতের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের জন্য এক বিশাল মাইলফলক।

কী এই গাইডেড পিনাকা? প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO) দ্বারা তৈরি এই মাল্টি-ব্যারেল রকেট লঞ্চার সিস্টেমটি পিনাকার একটি আধুনিক সংস্করণ। এটি ইনর্শিয়াল নেভিগেশন এবং জিপিএস (GPS) গাইডেন্স প্রযুক্তি ব্যবহার করে, যার ফলে এর নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদের ক্ষমতা আগের চেয়ে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রায় ৭৫ কিলোমিটার পাল্লার মধ্যে থাকা যে কোনও শত্রুঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম এই রকেট সিস্টেম। একটি ট্রাক-ভিত্তিক লঞ্চার থেকে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে ৬টি রকেট ছোড়া সম্ভব।

আর্মেনিয়ার সঙ্গে মেগা চুক্তি: গত কয়েক বছর ধরেই আজারবাইজানের সঙ্গে সংঘাতের আবহে আর্মেনিয়া তার সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে ভারতের ওপর ভরসা রেখেছে। এই গাইডেড পিনাকা সরবরাহের প্রাথমিক চুক্তির মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ কোটি টাকা। তবে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং লজিস্টিক সহায়তা মিলিয়ে এই চুক্তির মোট অর্থমূল্য ১,০০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। রাশিয়া বা পশ্চিমা দেশগুলির পরিবর্তে ভারতের আধুনিক অস্ত্রের ওপর আর্মেনিয়ার এই আস্থা বিশ্বমঞ্চে ভারতের কূটনীতির বড় জয় বলে মনে করা হচ্ছে।

যন্ত্র ইন্ডিয়া লিমিটেডের সাফল্য: ২০২১ সালে অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ডের কর্পোরেটাইজেশনের পর গঠিত হয়েছিল ‘যন্ত্র ইন্ডিয়া লিমিটেড’। নাগপুর ভিত্তিক এই সংস্থাটি গত কয়েক বছরে উচ্চ-নির্ভুল অস্ত্র ব্যবস্থা তৈরিতে বিশেষ পারদর্শিতা দেখিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের লক্ষ্য হলো আগামী কয়েক বছরে প্রতিরক্ষা রপ্তানি কয়েক গুণ বাড়িয়ে তোলা। গাইডেড পিনাকার এই বিদেশের যাত্রা সেই লক্ষ্যপূরণের পথে একটি বড় লাফ। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, পিনাকার এই সাফল্যের পর মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আরও বেশ কিছু দেশ ভারতীয় এই রকেট সিস্টেম কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করতে পারে।