গ্যাসের আকাল রুখতে ময়দানে প্রশাসন! কল্যাণী বটলিং প্ল্যান্টে জরুরি বৈঠক ও সরজমিনে তদন্ত

রাজ্যে এলপিজি সিলিন্ডারের চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে শুক্রবার কল্যাণীর ইন্ডেন এলপিজি বোতলজাতকরণ কেন্দ্রে (Bottling Plant) একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভা ও পরিদর্শন করা হয়। নদিয়ার জেলাশাসক, রানাঘাটের পুলিশ সুপার এবং মহকুমা শাসকের উপস্থিতিতে এই সভায় মূলত গার্হস্থ্য গ্রাহক ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

প্ল্যান্টের জেনারেল ম্যানেজার গৌরীশঙ্কর সুধাংশু জানান, সাধারণত এই প্ল্যান্টে দিনে ৮৫,০০০ সিলিন্ডার রিফিল করা হয়। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী বর্তমানে তা কিছুটা কমিয়ে ৭০,০০০ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৭ শতাংশই বরাদ্দ থাকছে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য। কল্যাণী ডিস্ট্রিবিউটর অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস চেয়ারম্যান বলরাম মাঝি আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, ডিলারদের কাছে বর্তমানে গ্যাসের কোনো ঘাটতি নেই এবং প্ল্যান্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দ্রুত ডেলিভারি দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

কল্যাণীর এই কেন্দ্রটি থেকে নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি ও পূর্ব বর্ধমানের ১৬০টিরও বেশি ডিস্ট্রিবিউটরকে গ্যাস পাঠানো হয়। জেলাশাসক নির্দেশ দিয়েছেন, প্রতিটি মহকুমায় পুলিশ ও প্রশাসনের প্রতিনিধিরা প্রতিদিন মজুত তদারকি করবেন। বিশেষ করে হাসপাতাল, স্কুল এবং আইসিডিএস কেন্দ্রে যাতে জোগানে টান না পড়ে, সেদিকে কড়া নজর রাখতে বলা হয়েছে। ‘আগে আসলে আগে পাবেন’ ভিত্তিতে বুকিং ডেলিভারি করার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি কালোবাজারি রুখতে এনফোর্সমেন্ট শাখাকে সক্রিয় করা হয়েছে। সভার পর মা ক্যান্টিন ও আইসিডিএস কেন্দ্রগুলিতে গ্যাসের প্রাপ্যতা সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন প্রশাসনের শীর্ষকর্তারা।