‘আতঙ্কিত হবেন না, গ্যাস মজুত আছে’—প্যানিক বায়িং রুখতে দেশবাসীকে বড় বার্তা কেন্দ্রের

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে দেশজুড়ে রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে বলে যে জল্পনা ছড়িয়েছে, তাকে কার্যত ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিল কেন্দ্র সরকার। শুক্রবার পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তরফে এক জরুরি সাংবাদিক বৈঠকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, দেশে জ্বালানির কোনও অভাব নেই। সিলিন্ডার পাওয়া যাবে না—এমন আতঙ্কে (Panic Buying) সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত বুকিং না করার জন্য আবেদন জানিয়েছেন মন্ত্রকের যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা।

গত কয়েকদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরদের অফিসের সামনে লম্বা লাইন চোখে পড়ছে। গ্রাহকদের অভিযোগ ছিল, ফোনে বুকিং নেওয়া হচ্ছে না বা বুক করলেও সিলিন্ডার মিলছে না। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সরকার জানিয়েছে, দেশে অপরিশোধিত তেল শোধন ক্ষমতা ২৫৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন এবং বর্তমানে রিফাইনারিগুলো ১০০ শতাংশের বেশি ক্ষমতায় কাজ করছে। এলপিজি-র চাহিদা সামাল দিতে গত ৫ মার্চ থেকে দেশীয় উৎপাদন এক ধাক্কায় ৩০ শতাংশ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ে দিনে প্রায় ৫৫.৭ লক্ষ সিলিন্ডার বুকিং হতো, যা বর্তমানে বেড়ে ৭৫.৭ লক্ষে পৌঁছেছে। অর্থাৎ, প্রয়োজনের তুলনায় মানুষ আতঙ্কে অনেক বেশি বুকিং করছেন। সুজাতা শর্মা আশ্বস্ত করে বলেন, “দেশের ২৫ হাজার ডিস্ট্রিবিউটরের কোথাও গ্যাস ফুরিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেনি। গুজবে কান দিয়ে বা প্যানিক করে সিলিন্ডার মজুত করবেন না।” সরকার আরও জানিয়েছে, কেরোসিন বিলিবণ্টনের জন্যও অতিরিক্ত ৪৮ হাজার কিলোলিটার বরাদ্দ করা হয়েছে এবং পিএনজি (PNG) ও সিএনজি (CNG) সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রাখা হয়েছে।