বেকার যুবকদের অ্যাকাউন্টে দেড় হাজার টাকা! যুবসাথী প্রকল্পের পেমেন্ট নিয়ে সব ধোঁয়াশা কাটল আজ

রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য বড় সুখবর! মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের টাকা উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পাঠানোর প্রক্রিয়া আজ, শুক্রবারের মধ্যেই সম্পন্ন হতে চলেছে। গত ৭ মার্চ ধর্মতলার মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী এই আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেছিলেন। তারপর থেকেই দফায় দফায় উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১৫০০ টাকা করে ঢুকতে শুরু করেছে। তবে টাকা পাওয়া নিয়ে আবেদনকারীদের মনে এখনও বেশ কিছু প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে, যার উত্তর স্পষ্ট করল প্রশাসন।

টাকা পেতে কি DBT বাধ্যতামূলক? অনেকের মনেই প্রশ্ন ছিল, গ্যাস ভর্তুকি বা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো এই প্রকল্পে টাকা পাওয়ার জন্য কি আলাদা করে ‘ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার’ বা ডিবিটি (DBT) লিঙ্ক করতে হবে? সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, যুবসাথী প্রকল্পের জন্য আলাদা করে ডিবিটি লিঙ্কের প্রয়োজন নেই। আবেদন করার সময় আপনি যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য দিয়েছিলেন, সরাসরি সেখানেই টাকা পাঠানো হবে। তবে একটি শর্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ— ওই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার নম্বর যুক্ত বা ‘আধার সিডিং’ থাকা বাধ্যতামূলক।

কোন অ্যাকাউন্টে ঢুকবে টাকা? যুবসাথী প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী, ট্রেজারি থেকে সরাসরি টাকা পাঠানো হচ্ছে। তাই আপনার দেওয়া ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টটি যদি আধার-সংযুক্ত থাকে, তবেই টাকা জমা পড়বে। গতকালই জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন যে, আজকের মধ্যেই যেন পেমেন্ট প্রক্রিয়া শেষ করা হয়। ফলে যাঁরা এখনও টাকা পাননি, তাঁদের আজকের দিনটি অপেক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আধার সিডিং কেন জরুরি? আধার সিডিং হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সরকারি তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সত্যতা যাচাই করা হয়। এর ফলে সঠিক উপভোক্তার কাছেই টাকা পৌঁছাচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করে সরকার। সহজ কথায়, আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে যদি আধার লিঙ্ক করা থাকে এবং সেটি সক্রিয় থাকে, তবে টাকা পেতে কোনও সমস্যা হবে না।

মনে রাখবেন, আগে এই টাকা ১ এপ্রিল থেকে দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু বেকার যুবক-যুবতীদের সুবিধার্থে মুখ্যমন্ত্রী তা এগিয়ে এনেছেন। আজকের মধ্যে টাকা না ঢুকলে আপনার নিকটবর্তী ব্যাঙ্ক বা এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জে যোগাযোগ করতে পারেন।