সুকান্ত-শুভেন্দুদের ওপর ক্ষোভ? মোদীর সভার আগের দিনই দক্ষিণ দিনাজপুরে পদ্ম শিবিরে বড় ফাটল

আগামীকাল শনিবার কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মেগা সমাবেশ। যখন এই সমাবেশকে ঘিরে বঙ্গ বিজেপির সাজ সাজ রব, ঠিক তখনই কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের খাস তালুক দক্ষিণ দিনাজপুরে বড়সড় ধাক্কা খেল গেরুয়া শিবির। শুক্রবার হঠাৎই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন স্বরূপ চৌধুরী। বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার ঠিক আগেই সভাপতির এই ইস্তফা দলের অন্দরে গোষ্ঠীকোন্দলের ফাটলকে প্রকট করে তুলেছে।
ইস্তফার নেপথ্যে কি প্রার্থী তালিকায় বঞ্চনা? শুক্রবার বালুরঘাটে বিজেপির জেলা কার্যালয়ে এক সাংবাদিক বৈঠক ডেকে স্বরূপ চৌধুরী নিজের পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেন। তিনি ২০১৩ সাল থেকে দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকলেও, কেন আজ হঠাৎ সরে দাঁড়ালেন— সেই প্রশ্নে তিনি স্পষ্ট কোনো উত্তর দেননি। তবে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, দিল্লিতে প্রার্থী বাছাই নিয়ে বৈঠকের পরেই স্বরূপ চৌধুরী বুঝতে পেরেছেন যে আসন্ন নির্বাচনে তাঁর প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। সেই ‘অভিমান’ থেকেই প্রধানমন্ত্রীর সভার ঠিক আগের দিন এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “দলের ভাল সময় আসছে, তবে আমার মনে হয়েছে বর্তমান পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন সম্ভব নয়।”
তৃণমূলের খোঁচা: “সুকান্ত-শুভেন্দুর চক্রে সুস্থ থাকা কঠিন” এই ঘটনা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল কংগ্রেস। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তৃণমূল সভাপতি সুভাষ ভাওয়াল বলেন, “সুকান্তবাবু বা শুভেন্দুবাবুদের চক্রে পড়ে কোনো সুস্থ মানুষের পক্ষে কাজ করা কঠিন। এটা বিজেপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলেরই প্রতিফলন।” নির্বাচনের মুখে জেলা সভাপতির এই ইস্তফা যে দক্ষিণ দিনাজপুরে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তিকে কিছুটা দুর্বল করবে, তা একপ্রকার নিশ্চিত।
শনিবার ব্রিগেডের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী যখন ‘পরিবর্তন’-এর ডাক দেবেন, তখন তাঁরই মন্ত্রীর গড়ে এই ভাঙন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।